জয়পুরহাটে আমন ধানের ক্ষেতে পোকা দমনের জন্য কীটনাশকের বদলে পার্চিং পদ্ধতি এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই পদ্ধতিতে ধানি জমিতে গাছের ডাল, খুঁটি, বাঁশের কঞ্চি ও ধইঞ্চার ডাল পোঁতা হয়, যেগুলোর ওপর বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার এই পদ্ধতিকেই পার্চিং বলা হয়।
পার্চিং পদ্ধতি ফসলের পোকা দমনের জন্য অত্যন্ত কম ব্যয়বহুল এবং পরিবেশবান্ধব। এই পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন খরচ ও কীটনাশকের ব্যবহার কমে যাওয়ায় এটি জেলার কৃষকদের মাঝে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেক কৃষক আমন ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক পরিহার করে এই সহজ ও লাভজনক পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
পার্চিং সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে: ১. ডেড পার্চিং: মরা ডালপালা পুঁতে দিলে তা হবে ডেড পার্চিং। ২. লাইভ পার্চিং: জীবন্ত ধইঞ্চার ডাল জমিতে পুঁতে দিলে তা হবে লাইভ পার্চিং।
কৃষকেরা তাঁদের আমন ফসলের ক্ষেতকে ক্ষতিকারক পোকা থেকে রক্ষা করার জন্য বাঁশের আগা, বাঁশের কঞ্চি, গাছের ডাল এবং জীবন্ত ধইঞ্চার ডাল পুঁতেছেন। এক বিঘা জমিতে তাঁরা ৬-৮টি বাঁশের আগা, কঞ্চি, ডাল ও ধইঞ্চার ডাল পুঁতেছেন।
এসব পার্চিংয়ের ওপর শালিক, বুলবুলি, ফিঙেসহ বিভিন্ন ধরনের পোকাখাদক পাখি বসে এবং সেখান থেকে উড়ে গিয়ে ক্ষতিকারক পোকা ও পোকার ডিম খেয়ে ফেলে। ফলে কীটনাশক ছাড়াই পোকার আক্রমণ থেকে ধানগাছগুলো রক্ষা পাচ্ছে। এতে পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ার পাশাপাশি ধান উৎপাদনও কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।
হিচমী বাজারের নুরুল ইসলামসহ অনেক কৃষক জানান, এবার তাঁদের জমিতে আমন ধানের চারাগুলো সবুজ ও সতেজ হয়ে উঠেছে। তাঁরা পুরো ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। ফিঙে, শালিক ও বুলবুলি ওই ডালে বসে খেতের ক্ষতিকর পোকা ধরে খেয়ে ফেলছে।
বটতলী গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ পদ্ধতির ফলে ফসল উৎপাদনের খরচ কম হচ্ছে এবং কীটনাশকের ব্যবহার অনেক কমে গেছে। এতে আমরা খুব উপকার পাচ্ছি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে পোকা দমনে শুধু কীটনাশকে ভরসা করায় উৎপাদন খরচ বেশি হতো। এখন পার্চিং পদ্ধতিতে কৃষকদের খরচ কিছুটা হলেও কমছে। এই পদ্ধতি বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখছে। সেইসঙ্গে জমিতে জৈব সার হিসেবে পাখির বিষ্ঠা পড়ে জমির উর্বরতা বাড়াচ্ছে।’
জয়পুরহাট জেলায় এবার ৭২ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকেরা পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























