বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর শহীদ মইনুল রোডের বাড়িটি ছিল এক আলোচিত নাম। ঢাকা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে অবস্থিত এই বাড়িটি ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তবে ২০১০ সালে এক নাটকীয় ও বিতর্কিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং দলটির নেতাকর্মীদের মতে, এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়াটি ছিল মূলত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ।
১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবরণের পর সরকার বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর দুই শিশুপুত্রের বসবাসের জন্য নামমাত্র মূল্যে এই বাড়িটি বরাদ্দ দিয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর তিনি এই বাড়িতেই অবস্থান করেন। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাড়িটির লিজ বাতিল করার উদ্যোগ নেয়। সরকারের পক্ষ থেকে তখন যুক্তি দেখানো হয়েছিল যে, সেনানিবাসের ভেতরে কোনো বেসামরিক ব্যক্তির দীর্ঘ মেয়াদে বসবাস আইনসম্মত নয়। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখা হয়েছিল।
২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর প্রিয় এই বসতভিটা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেদিন অত্যন্ত অমর্যাদাকরভাবে এবং অশ্রুসিক্ত অবস্থায় তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। বিএনপি অভিযোগ করে আসছিল যে, আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই গায়ের জোরে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। দলটির শীর্ষ নেতাদের মতে, শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত রাজনৈতিক ক্ষোভের কারণেই একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছিল।
এই উচ্ছেদ ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িটি ভেঙে ফেলার পর সেখানে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একটি আইনি বিষয় ছিল না, বরং এটি ছিল দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যকার আস্থার সংকটের চরম বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও শহীদ মইনুল রোডের সেই বাড়ি এবং সেখান থেকে খালেদা জিয়ার বিদায়ে যে রাজনৈতিক তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, তা আজও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত বিষয় হয়ে আছে।
রিপোর্টারের নাম 

























