চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের একমাত্র আদালতে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কোনো বিচারক নেই। এর ফলে দ্বীপের প্রায় ৫ লাখ মানুষের আইনি সুরক্ষা ও বিচারিক সেবা পাওয়ার পথ কার্যত রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় একদিকে যেমন মামলার জট বাড়ছে, অন্যদিকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ ডিসেম্বর সন্দ্বীপ আদালতের তৎকালীন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বদলি হওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। দীর্ঘ এক মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো বিচারক নিয়োগ না হওয়ায় আদালতে কোনো প্রকার জামিন শুনানি, নতুন মামলা দায়ের কিংবা রায় ঘোষণার কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহূর্তে বিচারিক কার্যক্রমে এমন অচলাবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
সন্দ্বীপ আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সন্দ্বীপের মানুষের জন্য চট্টগ্রাম মূল শহরে গিয়ে আইনি সেবা নেওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। বর্তমানে অনেক আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চাইলেও বিচারক না থাকায় তারা সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে আইনি জটিলতা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। সন্দ্বীপে ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নিয়ে উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা সদরে যেতে হচ্ছে। ছোট স্পিডবোট বা ট্রলারে করে হাতকড়া পরা আসামিদের নিয়ে উত্তাল সাগর পাড়ি দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা আসামি পলায়নের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় সময় ও সরকারি অর্থের ব্যাপক অপচয় হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্বজনদের জামিনের অপেক্ষায় থাকা বিচারপ্রার্থীরা জানান, ছোটখাটো মামলায় আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন। বিচারক থাকলে হয়তো অনেক আগেই তাদের জামিন হতো। এখন শুনানির জন্য চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার খরচ জোগাতে গিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
উদ্ভূত সংকট নিরসনে সন্দ্বীপ আইনজীবী সমিতি ইতোমধ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছে। চিঠির অনুলিপি আইন সচিব, জেলা ও দায়রা জজ এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সন্দ্বীপে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারক পদায়নের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমল থেকে সন্দ্বীপে চৌকি আদালত প্রতিষ্ঠিত থাকলেও বর্তমানে বিচারক না থাকায় এটি একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদায়ন করা না হলে দ্বীপবাসীর আইনি ভোগান্তি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















