প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাদেশ জারির দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকশ শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়টি দখলে নেন, যার ফলে আশপাশের সড়কগুলোতে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট অরডিন্যান্স’, ‘শিক্ষা নিয়ে তালবাহানা চলবে না’, ‘শিক্ষা না সিন্ডিকেট? শিক্ষা, শিক্ষা’—এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের দাবি আদায়ে রাজপথ উত্তাল করে তোলেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে টালবাহানা করা হচ্ছে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু বকর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত দেড় বছর ধরে আমরা আমাদের পরিচয়ের দাবিতে লড়াই করছি। সরকার বারবার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করছে না। আমাদের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিচয় নেই। সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার ইচ্ছা আমাদের নেই, কিন্তু পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।”
আরেক শিক্ষার্থী সবুজ হোসেন জানান, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে অধ্যাদেশ জারির প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরকার তা রক্ষা করেনি। তিনি বলেন, “অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ব না। সরকার আমাদের নিয়ে গড়িমসি করছে, আমরা এই অনিশ্চয়তা থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।”
এর আগে গতকাল বুধবারও দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সায়েন্সল্যাব মোড়সহ রাজধানীর তাঁতীবাজার ও টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। টানা দ্বিতীয় দিনের এই কর্মসূচির ফলে ধানমন্ডি, মিরপুর রোড ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাতটি কলেজ হলো— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ এবং সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। শিক্ষার্থীরা এই কলেজগুলোকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























