ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই উদ্যোক্তা জীবনের স্বপ্ন বুনেছিলেন নিশাত ফেরদৌস আনিকা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে হাতে গড়া গহনা নিয়ে শুরু করেন তার অনলাইন যাত্রা, যার নাম দেন ‘অহং’। পড়াশোনার ক্ষতি না করে ছোট পরিসরে কাজ শুরু করলেও, করোনা মহামারি তার জীবনে আশীর্বাদ হয়ে আসে। লকডাউনের সময় কাঠ দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি ব্যাগ তৈরি করে তিনি অভূতপূর্ব সাড়া পান, যা তার ব্যবসাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়। বর্তমানে দেশীয় ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে তার তৈরি কাঠের ব্যাগ ও গহনা তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই স্বাধীনভাবে কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন আনিকা। তারই ফলস্বরূপ ‘অহং’ পেজের মাধ্যমে হাতে তৈরি গহনা বিক্রি শুরু করেন। ‘অহং’ নামটি এসেছে ‘অহংকার’ শব্দ থেকে। আনিকার ভাবনা হলো, দেশীয় পণ্য ব্যবহারের প্রতি সবার মনে যেন গর্ব ও অহংকারবোধ জন্মায়, আর মানুষ যেন ভালোবাসা নিয়ে দেশীয় জিনিস ব্যবহার করে। এই অনুপ্রেরণা থেকেই তার ব্র্যান্ডের নামকরণ।
প্রাথমিকভাবে পড়াশোনার ক্ষতি এড়াতে ছোট পরিসরে কাজ করছিলেন আনিকা। তবে করোনা মহামারি অনেক মানুষের জীবনে যেমন নতুন দিক উন্মোচন করেছে, তেমনি আনিকার উদ্যোক্তা জীবনেও এটি আশীর্বাদ হয়ে আসে। লকডাউনের দীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন উপাদান নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ করতে গিয়ে তিনি কাঠ দিয়ে পাঁচটি ব্যাগ তৈরি করেন। এই ব্যাগগুলো অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং এর মাধ্যমেই ‘অহং’-এর পুরোদমে পথচলা শুরু হয়।
দেশীয় পণ্যের প্রতি ভালোবাসা এবং নিজের মতো করে কাজ করার স্বাধীনতা আনিকাকে উদ্যোক্তা হতে অনুপ্রাণিত করেছে। তার এই যাত্রায় পরিবারের সমর্থন ছিল অপরিহার্য। মা তার কাজের সবচেয়ে বড় সমালোচক এবং নিজেও বিভিন্ন হাতের কাজে পারদর্শী। প্রতিটি নতুন পণ্য তৈরির পর মায়ের গঠনমূলক সমালোচনা আনিকার কাজকে আরও নিখুঁত করতে সাহায্য করে। এছাড়া, বাবা ও ভাইও সবসময় তাকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেছেন।
নারী উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আনিকাকে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কাঁচামালের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছোটাছুটি করতে গিয়ে অনেক সময় একা যাওয়াটা অনিরাপদ মনে হয়েছে তার। আনিকা মনে করেন, সমাজে নারীদের পদচারণা বাড়লেও, তাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এখনো সেভাবে আসেনি, যা তার মতে প্রধান প্রতিবন্ধকতা।
উদ্যোক্তা জীবনের সবচেয়ে ভালো লাগার মুহূর্তের কথা জানাতে গিয়ে আনিকা বলেন, একসময় বিয়েতে ব্যবহৃত গহনা, ব্যাগসহ বিভিন্ন অনুষঙ্গ মূলত ভারত বা পাকিস্তান থেকে আসতো। বর্তমানে জামদানি শাড়ির পাশাপাশি ব্যাগ ও গহনার ক্ষেত্রেও দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে। আনিকার জন্য গর্ব ও আনন্দের মুহূর্ত ছিল, যখন তিনি প্রথমবার তার হাতে তৈরি কাঠের ব্যাগ বিয়ের অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখেন। এই ঘটনা তাকে এতটাই অনুপ্রাণিত করে যে, পরবর্তীতে তিনি একটি বিশেষ ব্রাইডাল সিরিজও প্রকাশ করেন। এটি দেশীয় পণ্যের প্রতি ভোক্তাদের আস্থা ও ভালোবাসার এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























