বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘ছোট রাজবাড়ি’ বা জমিদারবাড়িটি ভাঙার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। দীর্ঘদিনের পুরোনো ও জরাজীর্ণ এই ভবনটি প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণের দাবি উঠলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঘিয়া ইউনিয়নের এই প্রাচীন স্থাপনাটি এলাকার দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী। ভবনটি অত্যন্ত প্রাচীন হওয়ায় এটি সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে একটি আবেদন আগে থেকেই জমা ছিল। তবে সম্প্রতি ব্যক্তিমালিকানাধীন এই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হলে এবং ভাঙার কাজ শুরু হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা প্রশাসনের নজরে আসে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ জানুয়ারি রাতে কচুয়া উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভবনটির বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত ভাঙার কাজ স্থগিত রাখার জন্য মালিকপক্ষকে অনুরোধ জানান। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বর্তমানে স্থাপনাটি ভাঙার কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
বাড়ির বর্তমান মালিকপক্ষ জানায়, ১৯৮৬ সাল থেকে তারা ক্রয়সূত্রে এই জমিতে বসবাস করছেন। বিআরএস জরিপেও জমিটি তাদের নামে রেকর্ডভুক্ত। ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় তারা এটি ভেঙে নতুন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন এবং স্থাপনার ভগ্নাবশেষ এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে সংরক্ষণের আবেদনের বিষয়ে তারা আগে থেকে অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী হাসান জানান, মঘিয়ায় অবস্থিত এই জমিদারবাড়িটি দীর্ঘদিনের ইতিহাসের সাক্ষী। সংশ্লিষ্ট জমিতে একটি মন্দিরও রয়েছে। জমির বর্তমান মালিকরা সেখানে নতুন স্থাপনা নির্মাণের উদ্দেশ্যে পুরোনো ভবনের অংশবিশেষ এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেছিলেন, যিনি গত প্রায় দেড় মাস ধরে ভাঙার কাজ চালাচ্ছিলেন। তবে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় বর্তমানে সব ধরনের ভাঙার কাজ ও নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই ঐতিহাসিক স্থানের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















