ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামে সংখ্যালঘুর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের নেপথ্যে আ.লীগের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে অস্থিরতা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির স্বীকারোক্তি ও পুলিশের তদন্তে এই ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের চিত্র ফুটে উঠেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হারুনের আদালতে আসামি মনির হোসেন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দিতে মনির জানান, এই অগ্নিসংযোগ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র ফুটিয়ে তুলে ভারতসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অস্থিরতা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

মনিরের জবানবন্দি অনুযায়ী, ব্যক্তিগত একটি সমস্যার বিচার চাইতে তিনি স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তখন ওই নেতা তাকে আশ্বস্ত করেন যে, শেখ হাসিনাকে পুনরায় দেশে ফিরিয়ে আনতে পারলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। পরবর্তীতে তাকে রাঙামাটির এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন পেশাদার অপরাধীকে এই চক্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাউজানে অগ্নিকাণ্ডের কয়েকদিন আগে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে হিন্দু, বৌদ্ধ ও পাহাড়ি সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমনকি অগ্নিসংযোগের আগে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের হাতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৩ লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

জবানবন্দিতে মনির আরও উল্লেখ করেন, এই নাশকতায় অংশ নেওয়ার বিনিময়ে তাকে এক লাখ টাকা এবং রাঙামাটি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তাকে আশ্বস্ত করা হয় যে, ‘হাসিনা ফিরে এলে পড়াশোনার প্রয়োজন হবে না।’

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দিয়ে আন্তর্জাতিক ফায়দা হাসিলের যে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, এই ঘটনা তারই একটি অংশ। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কুশীলবদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই ইস্যুতে নিশ্চয়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র

চট্টগ্রামে সংখ্যালঘুর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের নেপথ্যে আ.লীগের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে অস্থিরতা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির স্বীকারোক্তি ও পুলিশের তদন্তে এই ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের চিত্র ফুটে উঠেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হারুনের আদালতে আসামি মনির হোসেন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দিতে মনির জানান, এই অগ্নিসংযোগ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র ফুটিয়ে তুলে ভারতসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অস্থিরতা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

মনিরের জবানবন্দি অনুযায়ী, ব্যক্তিগত একটি সমস্যার বিচার চাইতে তিনি স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তখন ওই নেতা তাকে আশ্বস্ত করেন যে, শেখ হাসিনাকে পুনরায় দেশে ফিরিয়ে আনতে পারলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। পরবর্তীতে তাকে রাঙামাটির এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন পেশাদার অপরাধীকে এই চক্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাউজানে অগ্নিকাণ্ডের কয়েকদিন আগে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে হিন্দু, বৌদ্ধ ও পাহাড়ি সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমনকি অগ্নিসংযোগের আগে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের হাতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৩ লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

জবানবন্দিতে মনির আরও উল্লেখ করেন, এই নাশকতায় অংশ নেওয়ার বিনিময়ে তাকে এক লাখ টাকা এবং রাঙামাটি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তাকে আশ্বস্ত করা হয় যে, ‘হাসিনা ফিরে এলে পড়াশোনার প্রয়োজন হবে না।’

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দিয়ে আন্তর্জাতিক ফায়দা হাসিলের যে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, এই ঘটনা তারই একটি অংশ। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কুশীলবদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।