বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) প্রথম বর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকল বর্ষের চলমান ও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা এই সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে গত ১৩ জানুয়ারি জারি করা এক জরুরি নোটিশে জানানো হয় যে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আগামী ২৫ জানুয়ারি (রোববার) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানে সকল শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং আয়োজনকে সফল করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পরীক্ষাসহ সকল সেমিস্টার ও বর্ষের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলা বিভাগের ৪র্থ বর্ষ, ইংরেজি বিভাগের ৪র্থ বর্ষসহ একাধিক বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন যে, একটি নির্দিষ্ট ব্যাচের অনুষ্ঠানের জন্য অন্য সকল বর্ষের পরীক্ষা স্থগিত করা যুক্তিসঙ্গত নয়। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে মূলত নবীন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিই মুখ্য হওয়া উচিত, সেখানে অন্যান্য বর্ষের পরীক্ষাসূচি স্থগিত করলে তা সেশনজটে জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে। এছাড়া, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের কারণে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শেষ না হলে শিক্ষার্থীরা নানা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বাংলা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ জালাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পরীক্ষা পেছানোর মতো হঠকারী সিদ্ধান্ত আমাদের দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলবে। এতে সেশনজট আরও বাড়বে। আমরা বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ জানাই, এই সিদ্ধান্ত যেন প্রত্যাহার করা হয়।” তিনি আরও বলেন, “ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে যাদের অংশগ্রহণ বা সংশ্লিষ্টতা নেই, তাদের পরীক্ষা থেকে বিরত রাখার অধিকার কারো নেই। যার কাজ যিনি করবেন, সেটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কারোর বাধায় যেন কেউ আটকে না যায়—এটাই আমাদের চাওয়া।”
একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে পরীক্ষা স্থগিত হওয়া ইংরেজি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াছিন কাজী বলেন, “ওরিয়েন্টেশনের জন্য আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত হবে কেন? আমাদের সেশনের বেশ কয়েকটি বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা ২৫ তারিখে নির্ধারিত ছিল। এই পরীক্ষা স্থগিত হলে তা নির্বাচনের পর চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সুব্রত কুমার বাহাদুর বলেন, “কেন্দ্রীয় এই প্রোগ্রামে সব বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকদের উপস্থিতি প্রয়োজন। সেই প্রেক্ষিতে আয়োজনটি সাফল্যমণ্ডিত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সমন্বয় করে পুনর্নির্ধারণ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব খুব বেশি না পড়ে।”
শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অটল রয়েছেন। তারা নবীনবরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হলেও তা যেন অন্য বর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত না করে, সে বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে পরীক্ষাগুলো পূর্বনির্ধারিত সূচিতেই গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















