বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সাবেক স্বৈরাচারী শাসকরা তাদের অপরাধের জন্য কোনো অনুশোচনা বা অনুতাপ প্রকাশ করছে না, বরং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাতে যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা পরিষ্কারভাবে জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার মডেল অনুসরণ করতে হলে আগে অপরাধ স্বীকার এবং অনুশোচনা প্রয়োজন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুপস্থিত।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করবে। নির্বাচনকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও সম্পর্কে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জনগণের সমর্থনে জুলাই সনদ অনুমোদিত হলে ভবিষ্যতে দেশে স্বৈরতন্ত্রের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট ও নির্বাচন পরবর্তী ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পৃথক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনকে (বিএসসি) একটি শক্তিশালী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বুধবার যমুনায় বিএসসির পক্ষ থেকে সরকারের পাওনা ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার চেক গ্রহণকালে তিনি প্রতিষ্ঠানের আয় দিয়ে বহরে আরও জাহাজ যুক্ত করার পরামর্শ দেন। একই দিনে মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা) ও জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের মধ্যে সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। প্রধান উপদেষ্টা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সমুদ্র দূষণ রোধ এবং টেকসই সুনীল অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
রিপোর্টারের নাম 























