ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

কারওয়ান বাজারে নৈরাজ্য: চাঁদাবাজদের দখলে বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪২:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কারওয়ান বাজারের চিত্র এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফুটপাত থেকে শুরু করে সড়ক পর্যন্ত সর্বত্রই ভ্রাম্যমাণ দোকানের দখলে। উন্মুক্ত ড্রেন থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধ, যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ এবং জলাবদ্ধতায় নাকাল সাধারণ মানুষ। শীতকালে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় থাকলেও বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ রয়েছে, এখানে সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের কোনো আইন-কানুন কার্যকর নেই। বরং নানা অজুহাতে প্রতি ঘণ্টায় আদায় করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ চাঁদাবাজি, যা দৈনিক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এই চাঁদাবাজ চক্রই কার্যত নির্ধারণ করছে বাজারের কার্যক্রম। ফলে কর্তৃপক্ষের পক্ষে কোনো প্রকার উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকাটি কেবল একটি পাইকারি বাজারই নয়, এখানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বহুতল ভবনও গড়ে উঠেছে, যা এর বাণিজ্যিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে থাকা ১ ও ২ নম্বর মার্কেট, কিচেন মার্কেট, সিটি করপোরেশন আড়ৎ ভবন, ডিআইটি মার্কেট, কাব্যকস সুপার মার্কেট, উত্তর কারওয়ান বাজার (ফলের আড়ৎ), পূর্ব তেজতুরী বাজার, হাসিনা মার্কেট সহ প্রায় ১০ থেকে ১২টি মার্কেট ও আড়ৎ রয়েছে কারওয়ান বাজারজুড়ে। সরেজমিনে দেখা গেছে, এই সকল মার্কেট ও আড়তের চারপাশের ফুটপাত এবং সড়কের ওপর অসংখ্য দোকানপাট গড়ে উঠেছে। কোনো কোনো স্থানে ফুটপাত ছাপিয়ে পুরো সড়কই অস্থায়ী ও অবৈধ দোকানে পরিণত হয়েছে, যা দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি সড়ক ছিল। পেট্রোবাংলা থেকে শুরু করে বাজারের প্রতিটি অলি-গলিতেও চলছে অবৈধ গাড়ি পার্কিং। সম্প্রতি প্রধান সড়কের ওপর মাটি ও জ্বালানি কাঠের মতো ব্যবসায়িক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে, যা বাজারের শৃঙ্খলাকে আরও বিঘ্নিত করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে শাপলা চত্বরের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কারওয়ান বাজারে নৈরাজ্য: চাঁদাবাজদের দখলে বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র

আপডেট সময় : ১১:৪২:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কারওয়ান বাজারের চিত্র এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফুটপাত থেকে শুরু করে সড়ক পর্যন্ত সর্বত্রই ভ্রাম্যমাণ দোকানের দখলে। উন্মুক্ত ড্রেন থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধ, যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ এবং জলাবদ্ধতায় নাকাল সাধারণ মানুষ। শীতকালে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় থাকলেও বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ রয়েছে, এখানে সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের কোনো আইন-কানুন কার্যকর নেই। বরং নানা অজুহাতে প্রতি ঘণ্টায় আদায় করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ চাঁদাবাজি, যা দৈনিক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এই চাঁদাবাজ চক্রই কার্যত নির্ধারণ করছে বাজারের কার্যক্রম। ফলে কর্তৃপক্ষের পক্ষে কোনো প্রকার উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকাটি কেবল একটি পাইকারি বাজারই নয়, এখানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বহুতল ভবনও গড়ে উঠেছে, যা এর বাণিজ্যিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে থাকা ১ ও ২ নম্বর মার্কেট, কিচেন মার্কেট, সিটি করপোরেশন আড়ৎ ভবন, ডিআইটি মার্কেট, কাব্যকস সুপার মার্কেট, উত্তর কারওয়ান বাজার (ফলের আড়ৎ), পূর্ব তেজতুরী বাজার, হাসিনা মার্কেট সহ প্রায় ১০ থেকে ১২টি মার্কেট ও আড়ৎ রয়েছে কারওয়ান বাজারজুড়ে। সরেজমিনে দেখা গেছে, এই সকল মার্কেট ও আড়তের চারপাশের ফুটপাত এবং সড়কের ওপর অসংখ্য দোকানপাট গড়ে উঠেছে। কোনো কোনো স্থানে ফুটপাত ছাপিয়ে পুরো সড়কই অস্থায়ী ও অবৈধ দোকানে পরিণত হয়েছে, যা দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি সড়ক ছিল। পেট্রোবাংলা থেকে শুরু করে বাজারের প্রতিটি অলি-গলিতেও চলছে অবৈধ গাড়ি পার্কিং। সম্প্রতি প্রধান সড়কের ওপর মাটি ও জ্বালানি কাঠের মতো ব্যবসায়িক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে, যা বাজারের শৃঙ্খলাকে আরও বিঘ্নিত করছে।