বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা একসময় দমন-পীড়নমূলক কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে, বরং ভুক্তভোগীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখা গেছে। অবৈধ আটককে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন এবং জোরপূর্বক আদায় করা স্বীকারোক্তিকে আদালতের নথিতে ‘আইনি সত্য’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার মতো ঘটনা বিচারব্যবস্থাকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে দমনমূলক রাষ্ট্রীয় শক্তির অংশে পরিণত করেছিল।
গুমসংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ২২৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশন জোরপূর্বক আদায় করা স্বীকারোক্তি, পদ্ধতিগত ত্রুটি এবং কৌশলগতভাবে মামলা দায়েরের একটি ধারাবাহিক প্রবণতা শনাক্ত করেছে। এসব অপকৌশলের মাধ্যমে জোরপূর্বক গুমের ঘটনাকে আইনের আড়ালে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল।
কমিশনের বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে যে, বিচারব্যবস্থা নাগরিক অধিকার রক্ষার পথ থেকে সরে এসে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো। এর মূল লক্ষ্য ছিল ভুক্তভোগীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নকে বৈধতা দেওয়া। এই প্রবণতা বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























