ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

স্বাস্থ্য ক্যাডারে গণপদোন্নতি: বিতর্কের মুখে প্রভাবশালী চিকিৎসকদের নাম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারনিউমারারিসহ প্রায় ১০ হাজার চিকিৎসকের পদোন্নতি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালট্যান্ট, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক পদমর্যাদায় পাঁচ হাজারেরও বেশি চিকিৎসক ইতোমধ্যে পদোন্নতি লাভ করেছেন। এই পদোন্নতির তালিকায় দীর্ঘদিনের বঞ্চনার শিকার বিএনপি ও জামায়াতপন্থি এবং সাধারণ চিকিৎসকদের নাম যেমন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তেমনি কিছু আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকের নামও স্থান পাওয়ায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই ব্যাপক পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক রয়েছেন, যারা পূর্বে রাজনৈতিক কারণে পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে একইসঙ্গে এমন অনেক চিকিৎসকও এই তালিকায় রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী সময়ে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পূর্বে সংঘটিত একটি ‘শান্তি সমাবেশ’-এ নেতৃত্ব দিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে এমন শতাধিক চিকিৎসককেও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এদের অনেকেই আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর আজীবন সদস্য। অভিযোগ উঠেছে, এসব পদোন্নতির পেছনে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ চক্র কাজ করছে। একইসঙ্গে, নিজেদের দলে ভেড়ানোর উদ্দেশ্যে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির একটি অংশও তাদের জন্য সুপারিশ করছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এসব পদোন্নতি একটি পুরোনো নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ১১ থেকে ২০তম বিসিএস ক্যাডারদের সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে অব্যাহতি দিয়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সরকারের সময়ও চলমান ছিল। এই প্রক্রিয়া বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও অব্যাহত থাকায় সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা উত্তীর্ণ ক্যাডারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমান বলেছেন, আওয়ামীপন্থিদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ও অভিযোগ এলেই কেবল বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। কারণ, আওয়ামীপন্থি সকল চিকিৎসকের তালিকা মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই, এবং কোনো সংগঠনও এই তালিকা সরবরাহ করেনি। ফলে যখনই যার ব্যাপারে অভিযোগ আসছে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নতুন চমক ‘পথের প্যাঁচাল’: ইয়াশ ও বহ্নির ভিন্নধর্মী রসায়ন

স্বাস্থ্য ক্যাডারে গণপদোন্নতি: বিতর্কের মুখে প্রভাবশালী চিকিৎসকদের নাম

আপডেট সময় : ০৯:৪২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারনিউমারারিসহ প্রায় ১০ হাজার চিকিৎসকের পদোন্নতি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালট্যান্ট, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক পদমর্যাদায় পাঁচ হাজারেরও বেশি চিকিৎসক ইতোমধ্যে পদোন্নতি লাভ করেছেন। এই পদোন্নতির তালিকায় দীর্ঘদিনের বঞ্চনার শিকার বিএনপি ও জামায়াতপন্থি এবং সাধারণ চিকিৎসকদের নাম যেমন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তেমনি কিছু আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকের নামও স্থান পাওয়ায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই ব্যাপক পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক রয়েছেন, যারা পূর্বে রাজনৈতিক কারণে পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে একইসঙ্গে এমন অনেক চিকিৎসকও এই তালিকায় রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী সময়ে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পূর্বে সংঘটিত একটি ‘শান্তি সমাবেশ’-এ নেতৃত্ব দিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে এমন শতাধিক চিকিৎসককেও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এদের অনেকেই আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর আজীবন সদস্য। অভিযোগ উঠেছে, এসব পদোন্নতির পেছনে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ চক্র কাজ করছে। একইসঙ্গে, নিজেদের দলে ভেড়ানোর উদ্দেশ্যে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির একটি অংশও তাদের জন্য সুপারিশ করছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এসব পদোন্নতি একটি পুরোনো নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ১১ থেকে ২০তম বিসিএস ক্যাডারদের সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে অব্যাহতি দিয়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সরকারের সময়ও চলমান ছিল। এই প্রক্রিয়া বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও অব্যাহত থাকায় সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা উত্তীর্ণ ক্যাডারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমান বলেছেন, আওয়ামীপন্থিদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ও অভিযোগ এলেই কেবল বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। কারণ, আওয়ামীপন্থি সকল চিকিৎসকের তালিকা মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই, এবং কোনো সংগঠনও এই তালিকা সরবরাহ করেনি। ফলে যখনই যার ব্যাপারে অভিযোগ আসছে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।