ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

১১-দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত: চরমোনাই পীরের দলের অনড় অবস্থানে জটিলতায় জামায়াত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের নির্বাচনি রাজনীতিতে বিভিন্ন ইসলামি ও সমমনা দল নিয়ে গঠিত ১১-দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর অঘোষিত নেতৃত্বে এই জোট গঠনের প্রক্রিয়া চললেও আসন সমঝোতার শেষ মুহূর্তে এসে তা চরম জটিলতার মুখে পড়েছে। কয়েকটি দলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নিজেদের দলীয় স্বার্থ রক্ষায় অনড় অবস্থানের কারণে সমঝোতা প্রক্রিয়া গুরুতরভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিশেষ করে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় সম্ভাবনাময় এই সমঝোতা প্রক্রিয়া ভাঙনের মুখে পড়েছে। গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও ইসলামী আন্দোলনের অবস্থানের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। এতে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। দলটির ১১-দলীয় সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে সেই অবস্থান কিছুটা পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন জোট গঠনেরও ইঙ্গিত দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

১১-দলীয় জোটে নতুন করে যুক্ত হওয়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সঙ্গে স্বল্প সময়ের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত হলেও ইসলামী আন্দোলনকে ঘিরে সৃষ্ট জটিলতার অবসান অনেকটাই অনিশ্চিত। অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং খেলাফত মজলিসসহ অন্য দুটি ইসলামি দলের চাওয়া-পাওয়া পুরোপুরি পূরণ না হলেও তারা জোট রক্ষার বিষয়ে আন্তরিক বলে জানা গেছে।

তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের কারণে অন্যান্য শরিক দলগুলোর মধ্যেও কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জামায়াত নেতাদের মতে, এসব দলের ‘অবাস্তব’ দাবি পূরণ করতে হলে তাদের সম্ভাবনাময় ও শক্তিশালী প্রার্থীর আসনও ছাড়তে হবে। যদি এসব দাবি মেনে সমঝোতা প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখা হয়, তবে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নতুন জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অনুসারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সমালোচনা চলছে, যা জোটের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নতুন চমক ‘পথের প্যাঁচাল’: ইয়াশ ও বহ্নির ভিন্নধর্মী রসায়ন

১১-দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত: চরমোনাই পীরের দলের অনড় অবস্থানে জটিলতায় জামায়াত

আপডেট সময় : ০৯:১৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের নির্বাচনি রাজনীতিতে বিভিন্ন ইসলামি ও সমমনা দল নিয়ে গঠিত ১১-দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর অঘোষিত নেতৃত্বে এই জোট গঠনের প্রক্রিয়া চললেও আসন সমঝোতার শেষ মুহূর্তে এসে তা চরম জটিলতার মুখে পড়েছে। কয়েকটি দলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নিজেদের দলীয় স্বার্থ রক্ষায় অনড় অবস্থানের কারণে সমঝোতা প্রক্রিয়া গুরুতরভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিশেষ করে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় সম্ভাবনাময় এই সমঝোতা প্রক্রিয়া ভাঙনের মুখে পড়েছে। গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও ইসলামী আন্দোলনের অবস্থানের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। এতে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। দলটির ১১-দলীয় সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে সেই অবস্থান কিছুটা পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন জোট গঠনেরও ইঙ্গিত দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

১১-দলীয় জোটে নতুন করে যুক্ত হওয়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সঙ্গে স্বল্প সময়ের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত হলেও ইসলামী আন্দোলনকে ঘিরে সৃষ্ট জটিলতার অবসান অনেকটাই অনিশ্চিত। অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং খেলাফত মজলিসসহ অন্য দুটি ইসলামি দলের চাওয়া-পাওয়া পুরোপুরি পূরণ না হলেও তারা জোট রক্ষার বিষয়ে আন্তরিক বলে জানা গেছে।

তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের কারণে অন্যান্য শরিক দলগুলোর মধ্যেও কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জামায়াত নেতাদের মতে, এসব দলের ‘অবাস্তব’ দাবি পূরণ করতে হলে তাদের সম্ভাবনাময় ও শক্তিশালী প্রার্থীর আসনও ছাড়তে হবে। যদি এসব দাবি মেনে সমঝোতা প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখা হয়, তবে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নতুন জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অনুসারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সমালোচনা চলছে, যা জোটের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।