ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাইয়ের চেতনা রক্ষায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের লক্ষ্যে ডাকসুর ১৫ কর্মসূচি ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে মাসব্যাপী ১৫টি বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ‘হ্যাঁ-তে সিল দিন, নিরাপদ বাংলাদেশ বুঝে নিন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এসব কর্মসূচি পালন করা হবে।

গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণভোটের পক্ষে জনমত গঠনে ডাকসুর গৃহীত ১৫টি কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—দেশজুড়ে সরাসরি গণসংযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, প্রদর্শনী বিতর্ক, রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ক সেমিনার, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে আলোচনা সভা। এছাড়া ‘জুলাই আহতদের ভাবনা’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা, দেশাত্মবোধক গান, কবিতা ও তথ্যচিত্র প্রকাশ, বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, পথনাটক ও মূকাভিনয় প্রদর্শনীর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করতে সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সফর এবং বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ডাকসু প্রতিনিধি দল।

লিখিত বক্তব্যে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্যমান জরাজীর্ণ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তন এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে আইনি ও নৈতিক ভিত্তি দেওয়ার ঐতিহাসিক মাধ্যম হচ্ছে এই গণভোট। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করা জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের আমানত রক্ষার শামিল।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন চলায় জনগণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এই গণভোট সেই অচলায়তন ভেঙে জনগণের সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার একটি অনন্য সুযোগ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে ‘জুলাই সনদ’ কার্যকর করা সহজ হবে, রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য আসবে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় স্বাধীনভাবে কাজ করার শক্তি অর্জন করবে।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর পক্ষ থেকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ দেশের সকল ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গণভোটের পক্ষে সারা দেশে একটি অভূতপূর্ব গণজোয়ার সৃষ্টির জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানায় ছাত্র সংসদটি।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ, রাইসুল ইসলাম ও বেলাল হোসাইন অপুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নতুন চমক ‘পথের প্যাঁচাল’: ইয়াশ ও বহ্নির ভিন্নধর্মী রসায়ন

রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাইয়ের চেতনা রক্ষায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের লক্ষ্যে ডাকসুর ১৫ কর্মসূচি ঘোষণা

আপডেট সময় : ০২:৪০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে মাসব্যাপী ১৫টি বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ‘হ্যাঁ-তে সিল দিন, নিরাপদ বাংলাদেশ বুঝে নিন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এসব কর্মসূচি পালন করা হবে।

গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণভোটের পক্ষে জনমত গঠনে ডাকসুর গৃহীত ১৫টি কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—দেশজুড়ে সরাসরি গণসংযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, প্রদর্শনী বিতর্ক, রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ক সেমিনার, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে আলোচনা সভা। এছাড়া ‘জুলাই আহতদের ভাবনা’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা, দেশাত্মবোধক গান, কবিতা ও তথ্যচিত্র প্রকাশ, বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, পথনাটক ও মূকাভিনয় প্রদর্শনীর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করতে সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সফর এবং বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ডাকসু প্রতিনিধি দল।

লিখিত বক্তব্যে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্যমান জরাজীর্ণ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তন এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে আইনি ও নৈতিক ভিত্তি দেওয়ার ঐতিহাসিক মাধ্যম হচ্ছে এই গণভোট। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করা জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের আমানত রক্ষার শামিল।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন চলায় জনগণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এই গণভোট সেই অচলায়তন ভেঙে জনগণের সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার একটি অনন্য সুযোগ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে ‘জুলাই সনদ’ কার্যকর করা সহজ হবে, রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য আসবে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় স্বাধীনভাবে কাজ করার শক্তি অর্জন করবে।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর পক্ষ থেকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ দেশের সকল ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গণভোটের পক্ষে সারা দেশে একটি অভূতপূর্ব গণজোয়ার সৃষ্টির জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানায় ছাত্র সংসদটি।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ, রাইসুল ইসলাম ও বেলাল হোসাইন অপুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।