ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ঐতিহ্য ও উৎসবের রঙে পুরান ঢাকায় সাকরাইন উদ্‌যাপন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

পৌষের বিদায় আর মাঘের আবাহনে পুরান ঢাকার আকাশে জমে উঠেছিল রঙিন ঘুড়ির মেলা। শতবর্ষের লালিত ঐতিহ্যকে ধারণ করে বর্ণিল আয়োজনে সাকরাইন উৎসব উদ্‌যাপন করেছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঢাকা মৈত্রী’। ঘুড়ি উড়ানো, পিঠা উৎসব আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবটি রূপ নিয়েছিল এক মিলনমেলায়।

গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পুরান ঢাকার একটি ভবনের ছাদে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে উৎসব প্রাঙ্গণ। নীল আকাশে হরেক রঙের ঘুড়ির ওড়াউড়ি আর লাটাই-সুতার টানে মেতে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা। সন্ধ্যার পর ফানুসের আলো আর উৎসবের আমেজ চারদিকে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে।

উৎসবে আসা দর্শনার্থীরা জানান, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় এমন আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম। শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে তারা বলেন, এই উৎসবের মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় কৃষ্টি তুলে ধরা সম্ভব। তারা প্রত্যাশা করেন, প্রতি বছর যেন সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি উদযাপিত হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মৈত্রী সংগঠনের সভাপতি মোরসালিন বাবু বলেন, “বাঙালির শেকড় সন্ধানী এই সাকরাইন উৎসব আমরা প্রতি বছরই আয়োজন করি। ঘুড়ি উড়ানো কিংবা পিঠা উৎসব আমাদের দীর্ঘদিনের নিজস্ব সংস্কৃতি। একে কোনোভাবেই নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশীয় ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা এবং আগামীতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করা।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এ আই জাবেদ তার বক্তব্যে বলেন, “সাকরাইনের মধ্য দিয়েই আমরা মূলত পৌষ মাসকে বিদায় জানিয়ে মাঘকে বরণ করে নিই। ঘুড়ি উড়ানো এবং লোকজ গান আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। একে অপসংস্কৃতি বলা অযৌক্তিক।” তিনি আরও যোগ করেন, সময়ের বিবর্তনে সাকরাইনের আদি রূপ যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য তরুণ সমাজকে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চায় এগিয়ে আসতে হবে।

উল্লেখ্য, ‘ঢাকা মৈত্রী’ একটি অরাজনৈতিক ও সেবামূলক সংগঠন হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এবারের সাকরাইন আয়োজনেও সংগঠনটি বাঙালির ঐতিহ্যগত মূল্যবোধকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নতুন চমক ‘পথের প্যাঁচাল’: ইয়াশ ও বহ্নির ভিন্নধর্মী রসায়ন

ঐতিহ্য ও উৎসবের রঙে পুরান ঢাকায় সাকরাইন উদ্‌যাপন

আপডেট সময় : ০২:১৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

পৌষের বিদায় আর মাঘের আবাহনে পুরান ঢাকার আকাশে জমে উঠেছিল রঙিন ঘুড়ির মেলা। শতবর্ষের লালিত ঐতিহ্যকে ধারণ করে বর্ণিল আয়োজনে সাকরাইন উৎসব উদ্‌যাপন করেছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঢাকা মৈত্রী’। ঘুড়ি উড়ানো, পিঠা উৎসব আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবটি রূপ নিয়েছিল এক মিলনমেলায়।

গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পুরান ঢাকার একটি ভবনের ছাদে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে উৎসব প্রাঙ্গণ। নীল আকাশে হরেক রঙের ঘুড়ির ওড়াউড়ি আর লাটাই-সুতার টানে মেতে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা। সন্ধ্যার পর ফানুসের আলো আর উৎসবের আমেজ চারদিকে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে।

উৎসবে আসা দর্শনার্থীরা জানান, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় এমন আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম। শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে তারা বলেন, এই উৎসবের মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় কৃষ্টি তুলে ধরা সম্ভব। তারা প্রত্যাশা করেন, প্রতি বছর যেন সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি উদযাপিত হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মৈত্রী সংগঠনের সভাপতি মোরসালিন বাবু বলেন, “বাঙালির শেকড় সন্ধানী এই সাকরাইন উৎসব আমরা প্রতি বছরই আয়োজন করি। ঘুড়ি উড়ানো কিংবা পিঠা উৎসব আমাদের দীর্ঘদিনের নিজস্ব সংস্কৃতি। একে কোনোভাবেই নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশীয় ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা এবং আগামীতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করা।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এ আই জাবেদ তার বক্তব্যে বলেন, “সাকরাইনের মধ্য দিয়েই আমরা মূলত পৌষ মাসকে বিদায় জানিয়ে মাঘকে বরণ করে নিই। ঘুড়ি উড়ানো এবং লোকজ গান আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। একে অপসংস্কৃতি বলা অযৌক্তিক।” তিনি আরও যোগ করেন, সময়ের বিবর্তনে সাকরাইনের আদি রূপ যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য তরুণ সমাজকে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চায় এগিয়ে আসতে হবে।

উল্লেখ্য, ‘ঢাকা মৈত্রী’ একটি অরাজনৈতিক ও সেবামূলক সংগঠন হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এবারের সাকরাইন আয়োজনেও সংগঠনটি বাঙালির ঐতিহ্যগত মূল্যবোধকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।