ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

৪৩৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ: পিকে হালদারসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের ১২ মামলা

জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৪৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে ১২টি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে এই বিপুল অঙ্কের ঋণ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়।

দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান ও উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা যোগসাজশে বেশ কিছু ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ সৃষ্টি করেন। এই ঋণগুলোর বিপরীতে এক বা দুটি কিস্তি পরিশোধ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে কোনো কিস্তিই পরিশোধ করা হয়নি। এরপরও বোর্ড সভায় কোনো আপত্তি ছাড়াই এসব ঋণ পুনর্গঠন (রিসিডিউল) করা হয়েছে। এছাড়া, যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর কোনো কার্যক্রম বিদ্যমান ছিল না। বরং অস্তিত্বহীন এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ঋণ অনুমোদন করানো হয়।

দুদকের তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের জন্য যেসব ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, সেসব ঠিকানায় বর্তমানে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। যেসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ প্রদান করা হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই ছিল নতুন এবং তাদের ব্যবসার কোনো পূর্ব কার্যক্রম ছিল না।

পিকে হালদার ছাড়াও মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ছিদ্দিকুর রহমান, মাহফুজা রহমান বেবী, মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ, আব্দুল মোতালিব আহমেদ, সাবেক এমডি মো. রাসেল শাহরিয়ার, মো. মফিজ উদ্দিন চৌধুরী, উজ্জল কুমার নন্দী, মো. ওমর শরীফ, মো. মোস্তফা, মোস্তফা আমনিুর রশীদ, প্রিতীশ কুমার হালদার, বাসু দেব ব্যানার্জী, তাসিন বিন তানজীর, মো. ওমর ফারুক, মো. রফিকুল ইসলাম, উৎপল মজুমদার, সুকুমার সাহা, রামপ্রসাদ রায়, গোপাল চন্দ্র গাঙ্গুলী, আবু রাজীব মারুফ, অমল চন্দ্র দাস, সাবেক পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. নুরুল হক গাজী, মো. আবুল শাহজাহান, অঞ্জন কুমার রায়, কাজী মাহজাবিন মমতাজ, সোমা ঘোষ, মো. মোস্তাইন বিল্লাহ, অরুন কুমার কুন্ডু, প্রদীপ কুমার নন্দী, উদ্ধব মল্লিক, মো. আতাহারুল ইসলাম, বীরেন্দ্র কুমার সোম ও অনিতা কর।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ৪০৬/৪০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পিকে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল)-এরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগের মুখে তিনি ২০২১ সালের প্রথম দিকে ভারত পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৪ মে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোকনগরের একটি বাড়ি থেকে পিকে হালদার ও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নতুন চমক ‘পথের প্যাঁচাল’: ইয়াশ ও বহ্নির ভিন্নধর্মী রসায়ন

৪৩৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ: পিকে হালদারসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের ১২ মামলা

আপডেট সময় : ১১:৩৮:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৪৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে ১২টি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে এই বিপুল অঙ্কের ঋণ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়।

দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান ও উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা যোগসাজশে বেশ কিছু ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ সৃষ্টি করেন। এই ঋণগুলোর বিপরীতে এক বা দুটি কিস্তি পরিশোধ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে কোনো কিস্তিই পরিশোধ করা হয়নি। এরপরও বোর্ড সভায় কোনো আপত্তি ছাড়াই এসব ঋণ পুনর্গঠন (রিসিডিউল) করা হয়েছে। এছাড়া, যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর কোনো কার্যক্রম বিদ্যমান ছিল না। বরং অস্তিত্বহীন এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ঋণ অনুমোদন করানো হয়।

দুদকের তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের জন্য যেসব ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, সেসব ঠিকানায় বর্তমানে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। যেসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ প্রদান করা হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই ছিল নতুন এবং তাদের ব্যবসার কোনো পূর্ব কার্যক্রম ছিল না।

পিকে হালদার ছাড়াও মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ছিদ্দিকুর রহমান, মাহফুজা রহমান বেবী, মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ, আব্দুল মোতালিব আহমেদ, সাবেক এমডি মো. রাসেল শাহরিয়ার, মো. মফিজ উদ্দিন চৌধুরী, উজ্জল কুমার নন্দী, মো. ওমর শরীফ, মো. মোস্তফা, মোস্তফা আমনিুর রশীদ, প্রিতীশ কুমার হালদার, বাসু দেব ব্যানার্জী, তাসিন বিন তানজীর, মো. ওমর ফারুক, মো. রফিকুল ইসলাম, উৎপল মজুমদার, সুকুমার সাহা, রামপ্রসাদ রায়, গোপাল চন্দ্র গাঙ্গুলী, আবু রাজীব মারুফ, অমল চন্দ্র দাস, সাবেক পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. নুরুল হক গাজী, মো. আবুল শাহজাহান, অঞ্জন কুমার রায়, কাজী মাহজাবিন মমতাজ, সোমা ঘোষ, মো. মোস্তাইন বিল্লাহ, অরুন কুমার কুন্ডু, প্রদীপ কুমার নন্দী, উদ্ধব মল্লিক, মো. আতাহারুল ইসলাম, বীরেন্দ্র কুমার সোম ও অনিতা কর।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ৪০৬/৪০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পিকে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল)-এরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগের মুখে তিনি ২০২১ সালের প্রথম দিকে ভারত পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৪ মে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোকনগরের একটি বাড়ি থেকে পিকে হালদার ও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে।