বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত হলো। বুধবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিএন্ডসি) ঐতিহ্যবাহী ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় শপথ গ্রহণ করেছেন রেকর্ড সংখ্যক ৩ হাজার ২৩ জন নবীন বিজিবি সদস্য।
বিজিবির ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যক নবীন সদস্যের একযোগে শপথ গ্রহণ। নবীন সদস্যদের মধ্যে ২ হাজার ৯৫০ জন পুরুষ এবং ৭৩ জন মহিলা রয়েছেন। এই বিশাল সংখ্যক রিক্রুটকে একইসাথে মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান বিজিবির সক্ষমতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে তিনি নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বিজিটিসিএন্ডসি’র কমান্ড্যান্টসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে সার্বিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠ নবীন সৈনিকের সম্মান অর্জন করেছেন আল ইমরান (বক্ষ নম্বর ১৫৫)। শারীরিক উৎকর্ষতায় পুরুষদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন শপিকুল ইসলাম এবং মহিলাদের মধ্যে লুবনা খাতুন। এছাড়া, শ্রেষ্ঠ ফায়ারার হিসেবে পুরুষ বিভাগে শফিকুর রহমান তামিম এবং মহিলা বিভাগে নাহিদা আক্তার পুরস্কৃত হয়েছেন।
বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (বিজিটিসিএন্ডসি) বিগত ৪৪ বছর ধরে বিজিবির রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে ৭২টি ব্যাচকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। যদিও এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের স্বাভাবিক সক্ষমতা ৭০০ থেকে ১ হাজার রিক্রুটকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার, তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনা এবং বিজিবি সদর দপ্তরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে ১০৪তম ব্যাচে একসঙ্গে এই রেকর্ড সংখ্যক ৩ হাজার ২৩ জন রিক্রুটকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে এক নজিরবিহীন অর্জন।
রিপোর্টারের নাম 

























