ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

শাকসু নির্বাচন: অঙ্গীকারনামা প্রত্যাখ্যান, বিকল্প স্মারকলিপির পথে প্রার্থীরা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করার শর্ত নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক আরোপিত এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা অঙ্গীকারনামার পরিবর্তে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, “আমরা কোনো ধরনের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে রাজি নই। আমরা নিজেদের বা আমাদের প্যানেলের কোনো অন্যায়ের দায় নিতে পারি, কিন্তু সবার দায় নেওয়া সম্ভব নয়। তাই সকল প্যানেল মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ ধরনের অঙ্গীকারনামায় আমরা যাব না। বরং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে, যেখানে আমরা জানাবো নির্বাচন আয়োজনে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। আমরা একটি উৎসবমুখর, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন চাই।”

একই সুরে ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, “শাকসু নির্বাচনে সহিংসতা না হওয়া নিশ্চিত করা কি আমাদের একার দায়িত্ব? এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তাহলে কেন আমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হবে, তা আমরা বুঝতে পারছি না। এই কারণে আমরা এটি প্রত্যাখ্যান করেছি এবং কেউই এতে স্বাক্ষর করব না।”

এর আগে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম জানিয়েছিলেন যে, ইসি বরাবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি আবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রত্যেক প্যানেলের দুই থেকে তিনজন প্রার্থীর সম্মিলিতভাবে অঙ্গীকারনামা পেশ করার কথা বলেছেন।

প্রস্তাবিত অঙ্গীকারনামায় তিনটি শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল:
১. শাকসু নির্বাচনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
২. শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না।
৩. শাকসু নির্বাচনকালীন ও পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে না।

অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরকারীদের নাম, মোবাইল নম্বর এবং শাকসুতে পদের নাম উল্লেখ করার কথা জানিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে, এই শর্ত মেনে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে শিক্ষার্থীরা রাজি না হওয়ায় তাদের আন্দোলন অব্যাহত ছিল। পরবর্তীতে, সকল প্রার্থীর সঙ্গে উপ-উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে এক দীর্ঘ আলোচনার পর, শিক্ষার্থীরা অঙ্গীকারনামার পরিবর্তে স্মারকলিপি দিতে সম্মত হন। এই নতুন সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ভবিষ্যৎ পথচলার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নতুন চমক ‘পথের প্যাঁচাল’: ইয়াশ ও বহ্নির ভিন্নধর্মী রসায়ন

শাকসু নির্বাচন: অঙ্গীকারনামা প্রত্যাখ্যান, বিকল্প স্মারকলিপির পথে প্রার্থীরা

আপডেট সময় : ১১:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করার শর্ত নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক আরোপিত এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা অঙ্গীকারনামার পরিবর্তে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, “আমরা কোনো ধরনের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে রাজি নই। আমরা নিজেদের বা আমাদের প্যানেলের কোনো অন্যায়ের দায় নিতে পারি, কিন্তু সবার দায় নেওয়া সম্ভব নয়। তাই সকল প্যানেল মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ ধরনের অঙ্গীকারনামায় আমরা যাব না। বরং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে, যেখানে আমরা জানাবো নির্বাচন আয়োজনে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। আমরা একটি উৎসবমুখর, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন চাই।”

একই সুরে ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, “শাকসু নির্বাচনে সহিংসতা না হওয়া নিশ্চিত করা কি আমাদের একার দায়িত্ব? এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তাহলে কেন আমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হবে, তা আমরা বুঝতে পারছি না। এই কারণে আমরা এটি প্রত্যাখ্যান করেছি এবং কেউই এতে স্বাক্ষর করব না।”

এর আগে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম জানিয়েছিলেন যে, ইসি বরাবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি আবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রত্যেক প্যানেলের দুই থেকে তিনজন প্রার্থীর সম্মিলিতভাবে অঙ্গীকারনামা পেশ করার কথা বলেছেন।

প্রস্তাবিত অঙ্গীকারনামায় তিনটি শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল:
১. শাকসু নির্বাচনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
২. শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না।
৩. শাকসু নির্বাচনকালীন ও পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে না।

অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরকারীদের নাম, মোবাইল নম্বর এবং শাকসুতে পদের নাম উল্লেখ করার কথা জানিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে, এই শর্ত মেনে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে শিক্ষার্থীরা রাজি না হওয়ায় তাদের আন্দোলন অব্যাহত ছিল। পরবর্তীতে, সকল প্রার্থীর সঙ্গে উপ-উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে এক দীর্ঘ আলোচনার পর, শিক্ষার্থীরা অঙ্গীকারনামার পরিবর্তে স্মারকলিপি দিতে সম্মত হন। এই নতুন সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ভবিষ্যৎ পথচলার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।