ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পলাতকদের হুমকির কোনো মূল্য নেই, সাহস থাকলে দেশে এসে আইনের মুখোমুখি হন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিদেশে অবস্থান করে নানা ধরনের হুমকি প্রদানকারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, তাদের দেওয়া হুমকির কোনো গুরুত্ব বা আইনি ভিত্তি নেই। যদি তাদের সাহস থাকে, তবে বিদেশে বসে কথা না বলে দেশে ফিরে এসে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত।

বুধবার (২০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিএন্ডসি) বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজিবির ১০৪তম রিক্রুটিং ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক হুমকির বিষয়ে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “বিদেশে পালিয়ে থেকে অনেকেই অনেক কথা বলতে পারেন। তবে আইনের আওতায় না আসা পর্যন্ত সেসব বক্তব্যের কোনো কার্যকারিতা নেই। যারা পালিয়ে আছেন, তারা যদি সত্যিকার অর্থে সাহসী হন, তবে দেশে এসে কথা বলুন। আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়ে কোনো বক্তব্য দিলে তখন সেটির অর্থ থাকবে।”

আসন্ন নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার বদ্ধপরিকর। নির্বাচনে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা থাকলে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি ও আরাকান আর্মির কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মিয়ানমার একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে। তবে বর্তমানে রাখাইন সীমান্ত এলাকাটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। সেখানে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর অনুপস্থিতির কারণে সীমান্তে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি আরাকান আর্মির কর্মকাণ্ডে সীমান্তে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং গুলিতে এক শিশু আহত হওয়ার মতো দুঃখজনক ঘটনাও ঘটেছে। সীমান্তে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে নিয়মিতভাবে মিয়ানমার সরকারকে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। যদিও আরাকান আর্মিকে বাংলাদেশ কোনো ধরনের স্বীকৃতি দেয়নি, তবে তারা সীমান্তে যে সংকট তৈরি করছে, তা মোকাবিলায় সরকার সজাগ রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নতুন চমক ‘পথের প্যাঁচাল’: ইয়াশ ও বহ্নির ভিন্নধর্মী রসায়ন

পলাতকদের হুমকির কোনো মূল্য নেই, সাহস থাকলে দেশে এসে আইনের মুখোমুখি হন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ১১:০২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশে অবস্থান করে নানা ধরনের হুমকি প্রদানকারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, তাদের দেওয়া হুমকির কোনো গুরুত্ব বা আইনি ভিত্তি নেই। যদি তাদের সাহস থাকে, তবে বিদেশে বসে কথা না বলে দেশে ফিরে এসে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত।

বুধবার (২০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিএন্ডসি) বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজিবির ১০৪তম রিক্রুটিং ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক হুমকির বিষয়ে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “বিদেশে পালিয়ে থেকে অনেকেই অনেক কথা বলতে পারেন। তবে আইনের আওতায় না আসা পর্যন্ত সেসব বক্তব্যের কোনো কার্যকারিতা নেই। যারা পালিয়ে আছেন, তারা যদি সত্যিকার অর্থে সাহসী হন, তবে দেশে এসে কথা বলুন। আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়ে কোনো বক্তব্য দিলে তখন সেটির অর্থ থাকবে।”

আসন্ন নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার বদ্ধপরিকর। নির্বাচনে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা থাকলে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি ও আরাকান আর্মির কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মিয়ানমার একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে। তবে বর্তমানে রাখাইন সীমান্ত এলাকাটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। সেখানে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর অনুপস্থিতির কারণে সীমান্তে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি আরাকান আর্মির কর্মকাণ্ডে সীমান্তে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং গুলিতে এক শিশু আহত হওয়ার মতো দুঃখজনক ঘটনাও ঘটেছে। সীমান্তে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে নিয়মিতভাবে মিয়ানমার সরকারকে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। যদিও আরাকান আর্মিকে বাংলাদেশ কোনো ধরনের স্বীকৃতি দেয়নি, তবে তারা সীমান্তে যে সংকট তৈরি করছে, তা মোকাবিলায় সরকার সজাগ রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।