২০১১ সালে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন এখন দেশের সীমান্ত রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তিনি। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিএন্ডসি) ঐতিহ্যবাহী ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ আয়োজিত সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার শপথ নেন ২১ বছর বয়সী এই তরুণ।
বিজিবির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ এই ব্যাচে আরফানসহ মোট ৩ হাজার ২৩ জন নবীন সদস্য দেশসেবার শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৫০ জন পুরুষ এবং ৭৩ জন নারী সদস্য রয়েছেন। আরফানের এই নতুন পথচলা তার পরিবারের দীর্ঘদিনের শোক ও বঞ্চনার মাঝে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
এর আগে, চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৫ বিজিবি আয়োজিত সিপাহি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মেধার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হন আরফান। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে সফলভাবে কুচকাওয়াজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি এখন বিজিবির একজন পূর্ণাঙ্গ সদস্য।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারান কিশোরী ফেলানী খাতুন। কাঁটাতারে ঝুলে থাকা তার নিথর দেহের সেই মর্মস্পর্শী ছবি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল সাধারণ মানুষ। ফেলানীর পরিবার দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সেই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
বোনের অকাল মৃত্যুর সেই দগদগে স্মৃতিকে শক্তিতে রূপান্তর করে আরফান হোসেন এখন দেশের সীমান্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন। তার এই অর্জনে গর্বিত পরিবার ও এলাকাবাসী। তারা বিশ্বাস করেন, যে সীমান্তে তার বোনকে প্রাণ দিতে হয়েছিল, সেই সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অটুট রাখতে আরফান নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবেন। ফেলানীর অপূর্ণ স্বপ্নগুলো আরফানের দেশপ্রেম ও কর্তব্যের মাধ্যমে সার্থকতা পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
রিপোর্টারের নাম 

























