ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তেহরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর এই দণ্ড কার্যকর করা হয়, তবে ইরানকে এর জন্য অত্যন্ত কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। ট্রাম্পের এই কড়া হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি ইরানে মৌলিক অধিকার ও বিভিন্ন দাবিতে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এলে তাদের ওপর চড়াও হয় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এই আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করার পর তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় ইরানের বিচার বিভাগ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নিরপরাধ মানুষের কণ্ঠরোধ করতে এবং ভীতি প্রদর্শনের জন্য এ ধরনের অমানবিক পদক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, ইরান যদি মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই পথ থেকে সরে না আসে, তবে দেশটির ওপর আরও কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হবে। তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় এবং গণতন্ত্রকামী মানুষের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। তেহরানের এই পদক্ষেপকে তিনি বিশ্ববিবেকের ওপর আঘাত হিসেবেও অভিহিত করেন।
এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ইরানের এই মৃত্যুদণ্ডের আদেশের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। তারা বলছে, সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তড়িঘড়ি করে এই রায় দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের এই সরাসরি হুমকি ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার বিদ্যমান দ্বান্দ্বিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হুঁশিয়ারির ফলে ইরানের ওপর বৈশ্বিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























