মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতির প্রশাসক ইশতিয়াক আজিজ উলফাত দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের কোনো সদস্য মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। একই সঙ্গে তিনি বিজয় রাকিন সিটিস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতির ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, “শেখ হাসিনা বলতেন, তার দল মুক্তিযোদ্ধার দল এবং বাকি সব দল মুক্তিযোদ্ধাদের বিরোধী দল।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “শহীদ জিয়াউর রহমান দেশের জন্য ৯ মাস যুদ্ধ করলেন, অথচ আওয়ামী লীগ তাকে পাকিস্তানি এজেন্ট বানালো। আর শেখ মুজিব পাকিস্তানে গিয়ে ৯ মাস বহালতবিয়তে ছিলেন, অথচ তাকেই মুক্তিযোদ্ধা বলা হয়।”
এই মুক্তিযোদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা আজ অবহেলিত। দেশের জন্য যুদ্ধ করলেও নিজেদের জন্য আমরা কিছু চাইনি।” তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৪ জুলাই মুক্তিযোদ্ধা কোটার ৫ শতাংশ বাতিলের বিরুদ্ধে আন্দোলন হলেও, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা কোটার কোনো সুবিধা পাননি। বরং আওয়ামী লীগের কথিত ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা’ই কোটার সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে ইশতিয়াক আজিজ জানান, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও একটি সংঘবদ্ধ চক্র সুকৌশলে ‘রাকিন’ নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে অবৈধ চুক্তি করে ফ্ল্যাট নির্মাণ করে। প্রকল্পটির মোট ১ হাজার ৯৫০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে মাত্র ৮৭০টি মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতির সদস্যদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, এই ৮৭০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে মাত্র ৩২ জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ৪৯টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পান। বাকি ফ্ল্যাটগুলো ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, দুর্নীতিবাজ আমলা, পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগের নেতারা নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে ভাগবাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন। এর ফলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
ইশতিয়াক আজিজ উলফাত অবিলম্বে অমুক্তিযোদ্ধাদের দখলে থাকা এসব প্লট-ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
রিপোর্টারের নাম 

























