ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

সহপাঠী হত্যার বিচার দাবিতে ফার্মগেট অবরোধ, রাজধানীতে তীব্র যানজট

সহপাঠী সাকিবুল হাসান রানা হত্যার বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা বুধবার কয়েক ঘণ্টা অচল হয়ে পড়েছিল। তেজগাঁও কলেজের শত শত শিক্ষার্থী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে ফার্মগেটসহ খামারবাড়ি, আগারগাঁও এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলমুখী সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তেজগাঁও কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট মোড়ে এসে অবস্থান নেয়। এরপর তারা একাধিক সংযোগ সড়কে বসে পড়লে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ‘সাকিবুল হত্যার বিচার চাই’, ‘খুনিদের গ্রেপ্তার কর’, ‘আর কোনো কালক্ষেপণ নয়’ ইত্যাদি স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

নিহত সাকিবুল হাসান রানা তেজগাঁও কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে কলেজ–সংলগ্ন এলাকায় এক সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এই ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। তাদের দাবি, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি জড়িতরা এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, সাকিবুলের মৃত্যু শিক্ষাঙ্গণের নিরাপত্তাহীনতার একটি নির্মম দৃষ্টান্ত। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “সাকিবুল মারা গেছে ২ জানুয়ারি। আজ ১৪ জানুয়ারি— এত দিনেও আমরা বিচার দেখতে পেলাম না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি।” তারা আরও জানান, বারবার আশ্বাস পেলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তাদের ক্ষোভ জমে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে।

সড়ক অবরোধের কারণে ফার্মগেট এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় অসংখ্য চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেককে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। জরুরি যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই সময়কার যানজট ও ভোগান্তির ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

খবর পেয়ে তেজগাঁও থানা পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সাকিবুল হাসান রানার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত পুরোদমে চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনা ও পুলিশের আশ্বাসের পর সোয়া তিনটার দিকে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে সড়ক অবরোধ তুলে নেন।

তবে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে তারা আবারও রাজপথে নামবেন। তারা শুধু অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার নয়, দ্রুত চার্জশিট দাখিল ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত দেখতে চান। দাবি আদায় না হলে ক্লাস বর্জন, কলেজ অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নতুন চমক ‘পথের প্যাঁচাল’: ইয়াশ ও বহ্নির ভিন্নধর্মী রসায়ন

সহপাঠী হত্যার বিচার দাবিতে ফার্মগেট অবরোধ, রাজধানীতে তীব্র যানজট

আপডেট সময় : ১০:৩৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

সহপাঠী সাকিবুল হাসান রানা হত্যার বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা বুধবার কয়েক ঘণ্টা অচল হয়ে পড়েছিল। তেজগাঁও কলেজের শত শত শিক্ষার্থী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে ফার্মগেটসহ খামারবাড়ি, আগারগাঁও এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলমুখী সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তেজগাঁও কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট মোড়ে এসে অবস্থান নেয়। এরপর তারা একাধিক সংযোগ সড়কে বসে পড়লে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ‘সাকিবুল হত্যার বিচার চাই’, ‘খুনিদের গ্রেপ্তার কর’, ‘আর কোনো কালক্ষেপণ নয়’ ইত্যাদি স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

নিহত সাকিবুল হাসান রানা তেজগাঁও কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে কলেজ–সংলগ্ন এলাকায় এক সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এই ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। তাদের দাবি, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি জড়িতরা এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, সাকিবুলের মৃত্যু শিক্ষাঙ্গণের নিরাপত্তাহীনতার একটি নির্মম দৃষ্টান্ত। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “সাকিবুল মারা গেছে ২ জানুয়ারি। আজ ১৪ জানুয়ারি— এত দিনেও আমরা বিচার দেখতে পেলাম না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি।” তারা আরও জানান, বারবার আশ্বাস পেলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তাদের ক্ষোভ জমে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে।

সড়ক অবরোধের কারণে ফার্মগেট এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় অসংখ্য চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেককে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। জরুরি যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই সময়কার যানজট ও ভোগান্তির ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

খবর পেয়ে তেজগাঁও থানা পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সাকিবুল হাসান রানার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত পুরোদমে চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনা ও পুলিশের আশ্বাসের পর সোয়া তিনটার দিকে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে সড়ক অবরোধ তুলে নেন।

তবে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে তারা আবারও রাজপথে নামবেন। তারা শুধু অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার নয়, দ্রুত চার্জশিট দাখিল ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত দেখতে চান। দাবি আদায় না হলে ক্লাস বর্জন, কলেজ অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।