ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচন ঘিরে রিকশা-ইজিবাইক শ্রমিকদের ১২ দফা দাবি: নিবন্ধনের সুযোগ ও হয়রানি বন্ধের আহ্বান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১২ দফা দাবি উত্থাপন করেছে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ইউনিয়ন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভা থেকে এসব দাবি জানানো হয়। শ্রমিক নেতাদের দাবি, যথাযথ নীতিমালা না থাকায় দেশের প্রায় ৭০ লাখ শ্রমিকের পরিবারসহ সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষ বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছেন।

আলোচনা সভায় রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম মাইজভান্ডারি লিখিত বক্তব্যে বলেন, দেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল। তারা সরকারি নিয়ম মেনে নিবন্ধন ও ট্যাক্স দিয়ে রাস্তায় চলাচল করতে চাইলেও আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক বাধার কারণে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এই বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ১২ দফা দাবির মধ্যে প্রধানতম হলো—বিআরটিএ কর্তৃক ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স ও রুট পারমিট প্রদান এবং আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করা। এছাড়া, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো যানবাহন আটক না করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্বাহী আদেশ জারির দাবি জানানো হয়।

সভায় বক্তারা এলাকাভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে অটোরিকশার সংখ্যা ও মালিকানা নির্ধারণ করে আনুপাতিক হারে লাইসেন্স প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা এবং আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়।

শ্রমিকদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ওপর সব ধরনের জুলুম, নির্যাতন ও টোকেন বা কার্ডের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করা। গ্যারেজগুলোর জন্য ট্রেড লাইসেন্স প্রদান এবং বিভিন্ন সড়কে চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে সার্ভিস লেন নির্মাণ করা। এছাড়া নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, বাসস্থান, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও শিক্ষার নিশ্চয়তা প্রদানের দাবিও জানানো হয়।

সংগঠনটি ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে গণপরিবহন হিসেবে শিল্পের স্বীকৃতি প্রদান এবং এক অঙ্কের সুদে জামানতবিহীন ঋণের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকা ব্যাটারিচালিত যানবাহন সংক্রান্ত রিটগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয়। সর্বোপরি, রিকশা ও ইজিবাইক শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করে তাদের অমানবিক শ্রম থেকে পর্যায়ক্রমে মুক্ত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানায় ইউনিয়নটি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে জামায়াত ইস্যুতে সরব ডা. তাহের: সরকার দলীয় মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন

নির্বাচন ঘিরে রিকশা-ইজিবাইক শ্রমিকদের ১২ দফা দাবি: নিবন্ধনের সুযোগ ও হয়রানি বন্ধের আহ্বান

আপডেট সময় : ১০:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১২ দফা দাবি উত্থাপন করেছে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ইউনিয়ন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভা থেকে এসব দাবি জানানো হয়। শ্রমিক নেতাদের দাবি, যথাযথ নীতিমালা না থাকায় দেশের প্রায় ৭০ লাখ শ্রমিকের পরিবারসহ সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষ বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছেন।

আলোচনা সভায় রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম মাইজভান্ডারি লিখিত বক্তব্যে বলেন, দেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল। তারা সরকারি নিয়ম মেনে নিবন্ধন ও ট্যাক্স দিয়ে রাস্তায় চলাচল করতে চাইলেও আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক বাধার কারণে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এই বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ১২ দফা দাবির মধ্যে প্রধানতম হলো—বিআরটিএ কর্তৃক ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স ও রুট পারমিট প্রদান এবং আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করা। এছাড়া, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো যানবাহন আটক না করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্বাহী আদেশ জারির দাবি জানানো হয়।

সভায় বক্তারা এলাকাভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে অটোরিকশার সংখ্যা ও মালিকানা নির্ধারণ করে আনুপাতিক হারে লাইসেন্স প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা এবং আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়।

শ্রমিকদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ওপর সব ধরনের জুলুম, নির্যাতন ও টোকেন বা কার্ডের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করা। গ্যারেজগুলোর জন্য ট্রেড লাইসেন্স প্রদান এবং বিভিন্ন সড়কে চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে সার্ভিস লেন নির্মাণ করা। এছাড়া নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, বাসস্থান, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও শিক্ষার নিশ্চয়তা প্রদানের দাবিও জানানো হয়।

সংগঠনটি ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে গণপরিবহন হিসেবে শিল্পের স্বীকৃতি প্রদান এবং এক অঙ্কের সুদে জামানতবিহীন ঋণের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকা ব্যাটারিচালিত যানবাহন সংক্রান্ত রিটগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয়। সর্বোপরি, রিকশা ও ইজিবাইক শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করে তাদের অমানবিক শ্রম থেকে পর্যায়ক্রমে মুক্ত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানায় ইউনিয়নটি।