চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ব্যবসায়ী ও জামায়াত কর্মী জামাল উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নাজিম উদ্দিন (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার এনায়েতবাজার মহিলা কলেজের সামনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত নাজিম উদ্দিন এই হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নাজিম উদ্দিন আত্মগোপনে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে তিনি চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে থাকাকেই তিনি আত্মগোপনের কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তবে গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব। মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ অনুযায়ী, গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার শাহনগর দিঘীরপাড় এলাকায় ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিনকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন সশস্ত্র ব্যক্তি অত্যন্ত কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে মাথা থেকে গলা পর্যন্ত অন্তত ১৩টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই হামলায় নাসির উদ্দিন নামে আরও একজন গুরুতর আহত হন, যিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তারকৃত নাজিম উদ্দিনকে ফটিকছড়ি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নাজিমকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব হবে।
এদিকে, নিহত জামালের অতীত কর্মকাণ্ডও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ২০০১ সালের তিনটি হত্যা মামলায় তার নাম ছিল বলে জানা গেছে। পুরনো কোনো শত্রুতার জেরে এই প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড কি না, অথবা স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক কোনো বিরোধ এর পেছনে কাজ করেছে কি না—সবগুলো দিক বিবেচনায় রেখেই তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রিপোর্টারের নাম 
























