ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়ায় সেতুহীন নীলকমল: ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোয় বিপর্যস্ত জনজীবন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার হাবিবপুর, কামালপুর ও বটতলা গ্রামের হাজার হাজার মানুষ নীলকমল নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সহজ পথটিতে সেতু না থাকায় এখানকার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কৃষকদেরও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সম্প্রতি এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে এক বৃদ্ধের গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা জনদুর্ভোগের চিত্রকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নীলকমল নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় তারা নিজেদের অর্থায়নে প্রায় ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে পারাপার হয়ে আসছিলেন। তবে টাকার অভাবে সম্প্রতি সাঁকোটি মেরামত করা সম্ভব হয়নি, ফলে এটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই জীর্ণ সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। হাবিবপুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান সম্প্রতি এই ভাঙা সাঁকো দিয়ে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে স্ট্রোক করেন। বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা গুরুতর। এই ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সেতুর অভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দাসিয়ারছড়ার কৃষকরা। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য যেমন ধান, পাট, সরিষা, শাক-সবজি ইত্যাদি উপজেলা সদর বাজারে সহজে নিয়ে যেতে পারছেন না। ভ্যান, রিকশা বা অটোরিকশার মতো যানবাহন সাঁকো পার হতে না পারায় তাদের প্রায় চার কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে বাজারে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে, তেমনি দ্রুত পচনশীল পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে, ফলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একজন স্থানীয় অটোরিকশা চালক আক্ষেপ করে বলেন, “নীলকমল নদীর ওপর একটি সেতুর জন্য আমরা বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু কেউ আমাদের কথা শুনছে না। এর ফলে কৃষকের মালামাল ও যাত্রীদের নিয়ে আমাদের অনেক পথ ঘুরে যেতে হয়, যা আমাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”

২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময়ের পর ভারতীয় বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়া বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ফুলবাড়ী উপজেলার অংশ হয়। এরপর থেকে এখানকার বাসিন্দারা উপজেলা সদরের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য নীলকমল নদীর ওপর একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। হাবিবপুরের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, “আমরা এখন বাংলাদেশের নাগরিক। উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি সেতুর দাবি করছি, অথচ কর্তৃপক্ষ আমাদের এই যৌক্তিক দাবিকে কর্ণপাত করছে না।”

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রহমান জানান, ভাঙা বাঁশের সাঁকো দিয়ে তিন গ্রামের মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের বিষয়টি সত্যিই কষ্টদায়ক। তিনি বলেন, এই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা

কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়ায় সেতুহীন নীলকমল: ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোয় বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট সময় : ০৯:৫২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার হাবিবপুর, কামালপুর ও বটতলা গ্রামের হাজার হাজার মানুষ নীলকমল নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সহজ পথটিতে সেতু না থাকায় এখানকার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কৃষকদেরও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সম্প্রতি এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে এক বৃদ্ধের গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা জনদুর্ভোগের চিত্রকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নীলকমল নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় তারা নিজেদের অর্থায়নে প্রায় ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে পারাপার হয়ে আসছিলেন। তবে টাকার অভাবে সম্প্রতি সাঁকোটি মেরামত করা সম্ভব হয়নি, ফলে এটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই জীর্ণ সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। হাবিবপুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান সম্প্রতি এই ভাঙা সাঁকো দিয়ে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে স্ট্রোক করেন। বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা গুরুতর। এই ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সেতুর অভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দাসিয়ারছড়ার কৃষকরা। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য যেমন ধান, পাট, সরিষা, শাক-সবজি ইত্যাদি উপজেলা সদর বাজারে সহজে নিয়ে যেতে পারছেন না। ভ্যান, রিকশা বা অটোরিকশার মতো যানবাহন সাঁকো পার হতে না পারায় তাদের প্রায় চার কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে বাজারে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে, তেমনি দ্রুত পচনশীল পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে, ফলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একজন স্থানীয় অটোরিকশা চালক আক্ষেপ করে বলেন, “নীলকমল নদীর ওপর একটি সেতুর জন্য আমরা বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু কেউ আমাদের কথা শুনছে না। এর ফলে কৃষকের মালামাল ও যাত্রীদের নিয়ে আমাদের অনেক পথ ঘুরে যেতে হয়, যা আমাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”

২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময়ের পর ভারতীয় বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়া বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ফুলবাড়ী উপজেলার অংশ হয়। এরপর থেকে এখানকার বাসিন্দারা উপজেলা সদরের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য নীলকমল নদীর ওপর একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। হাবিবপুরের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, “আমরা এখন বাংলাদেশের নাগরিক। উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি সেতুর দাবি করছি, অথচ কর্তৃপক্ষ আমাদের এই যৌক্তিক দাবিকে কর্ণপাত করছে না।”

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রহমান জানান, ভাঙা বাঁশের সাঁকো দিয়ে তিন গ্রামের মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের বিষয়টি সত্যিই কষ্টদায়ক। তিনি বলেন, এই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।