ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের তিন বিশেষ বার্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক খবর দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ইইউ-এর জোরালো সমর্থনের এই চিত্র তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূতের ঘোষিত প্রথম সুখবরটি হলো—বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি’ (পিসিএ) চূড়ান্ত করার বিষয়ে উভয় পক্ষের আলোচকরা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, রাজনীতি ও কৌশলগত ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এই ধরনের বিস্তৃত ও গভীর সহযোগিতামূলক চুক্তি সম্পন্ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই চুক্তির আওতায় সুশাসন, মানবাধিকার, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে দুই পক্ষ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।

দ্বিতীয় সুখবর হিসেবে মাইকেল মিলার বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে ইইউ-এর প্রস্তুতির কথা জানান। তিনি জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ-এর বিশেষ মিশন ইতোমধ্যে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৫৬ সদস্যের একটি দল দীর্ঘমেয়াদে পর্যবেক্ষণ চালাবে এবং নির্বাচনের ঠিক আগে আরও ৯০ জন পর্যবেক্ষক এই দলে যুক্ত হবেন। ইইউ-এর এই বিশাল প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাতেই সরেজমিনে উপস্থিত থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে এবং ভোট গ্রহণ শেষে তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করবে।

রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তৃতীয় সুখবরটি বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত। মাইকেল মিলার জানান, বাংলাদেশে নাগরিক সমাজের ভূমিকা জোরদার করতে এবং প্রয়োজনীয় তহবিল নিশ্চিত করতে ইইউ ইতোমধ্যে কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—দেশের সাধারণ মানুষ ও নাগরিক সমাজকে আরও শক্তিশালী করা, যাতে তারা সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজ যেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখল ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের তিন বিশেষ বার্তা

আপডেট সময় : ০৭:১৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক খবর দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ইইউ-এর জোরালো সমর্থনের এই চিত্র তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূতের ঘোষিত প্রথম সুখবরটি হলো—বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি’ (পিসিএ) চূড়ান্ত করার বিষয়ে উভয় পক্ষের আলোচকরা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, রাজনীতি ও কৌশলগত ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এই ধরনের বিস্তৃত ও গভীর সহযোগিতামূলক চুক্তি সম্পন্ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই চুক্তির আওতায় সুশাসন, মানবাধিকার, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে দুই পক্ষ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।

দ্বিতীয় সুখবর হিসেবে মাইকেল মিলার বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে ইইউ-এর প্রস্তুতির কথা জানান। তিনি জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ-এর বিশেষ মিশন ইতোমধ্যে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৫৬ সদস্যের একটি দল দীর্ঘমেয়াদে পর্যবেক্ষণ চালাবে এবং নির্বাচনের ঠিক আগে আরও ৯০ জন পর্যবেক্ষক এই দলে যুক্ত হবেন। ইইউ-এর এই বিশাল প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাতেই সরেজমিনে উপস্থিত থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে এবং ভোট গ্রহণ শেষে তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করবে।

রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তৃতীয় সুখবরটি বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত। মাইকেল মিলার জানান, বাংলাদেশে নাগরিক সমাজের ভূমিকা জোরদার করতে এবং প্রয়োজনীয় তহবিল নিশ্চিত করতে ইইউ ইতোমধ্যে কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—দেশের সাধারণ মানুষ ও নাগরিক সমাজকে আরও শক্তিশালী করা, যাতে তারা সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজ যেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।