ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধি ও ছাত্র প্রতিনিধি ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে উত্তাল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) বর্ধিত রেজিস্ট্রেশন ফি প্রত্যাহার এবং ছাত্র প্রতিনিধি ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বর থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হাদি চত্বর থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন হল, খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ হল ও খান জাহান আলী হলসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করার পর পুনরায় হাদি চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের প্রধান তিনটি দাবি হলো— অবিলম্বে রেজিস্ট্রেশন ফি কমাতে হবে, কোর্স রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বিভাগগুলোতে চালু হওয়া ছাত্র প্রতিনিধি পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল করতে হবে।

সমাবেশে অংশ নেওয়া ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ানো হয়েছে। এই বর্ধিত ব্যয় বহন করা অনেকের জন্যই কষ্টসাধ্য। আমরা এই অযৌক্তিক ফি বৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”

একই বর্ষের ইংরেজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক রাদ ছাত্র প্রতিনিধি ব্যবস্থার বিরোধিতা করে বলেন, “খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস। এখানে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম ছিল না। কিন্তু এখন ছাত্র প্রতিনিধির নামে ক্যাম্পাসে পরোক্ষভাবে রাজনীতি প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের এই মাধ্যমটি সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না।”

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রশাসন তাদের দাবি নিয়ে সরাসরি কথা না বলে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছে। একে ‘স্বৈরাচারী ব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তারা বলেন, এক কর্মদিবসের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালক এহসান মাজিদ মোস্তফা। তিনি শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনেন এবং বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো আমরা শুনেছি। বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তবে ফি বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি জানান, রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ানোর বিষয়টি সঠিক নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সংক্রান্ত কিছু ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখল ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধি ও ছাত্র প্রতিনিধি ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে উত্তাল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) বর্ধিত রেজিস্ট্রেশন ফি প্রত্যাহার এবং ছাত্র প্রতিনিধি ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বর থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হাদি চত্বর থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন হল, খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ হল ও খান জাহান আলী হলসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করার পর পুনরায় হাদি চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের প্রধান তিনটি দাবি হলো— অবিলম্বে রেজিস্ট্রেশন ফি কমাতে হবে, কোর্স রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বিভাগগুলোতে চালু হওয়া ছাত্র প্রতিনিধি পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল করতে হবে।

সমাবেশে অংশ নেওয়া ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ানো হয়েছে। এই বর্ধিত ব্যয় বহন করা অনেকের জন্যই কষ্টসাধ্য। আমরা এই অযৌক্তিক ফি বৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”

একই বর্ষের ইংরেজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক রাদ ছাত্র প্রতিনিধি ব্যবস্থার বিরোধিতা করে বলেন, “খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস। এখানে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম ছিল না। কিন্তু এখন ছাত্র প্রতিনিধির নামে ক্যাম্পাসে পরোক্ষভাবে রাজনীতি প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের এই মাধ্যমটি সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না।”

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রশাসন তাদের দাবি নিয়ে সরাসরি কথা না বলে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছে। একে ‘স্বৈরাচারী ব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তারা বলেন, এক কর্মদিবসের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালক এহসান মাজিদ মোস্তফা। তিনি শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনেন এবং বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো আমরা শুনেছি। বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তবে ফি বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি জানান, রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ানোর বিষয়টি সঠিক নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সংক্রান্ত কিছু ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।