আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তরের বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে বইছে উৎসবের আমেজ। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার পাশাপাশি জনমত গঠনে বেছে নিয়েছেন প্রচারণার নানা সৃজনশীল কৌশল। এর মধ্যে ডিজিটাল প্রচারণার পাশাপাশি শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে নির্বাচনী গান। বিশেষ করে জনপ্রিয় সব গানের সুরে প্রার্থীর গুণগান ও প্রতীকের প্রচারণা ভোটারদের নজর কাড়ছে।
রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রিকশা, ভ্যান বা ইজিবাইকে মাইক বেঁধে বাজানো হচ্ছে এসব গান। কোনোটি লোকজ সুরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, আবার কোনোটি আধুনিক বা সিনেমার জনপ্রিয় গানের আদলে প্যারোডি। গানের কথায় উঠে আসছে প্রার্থীর অতীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি এবং এলাকার সমস্যার সমাধানের আশ্বাস। শুধু রাজপথ নয়, অলিগলিও এখন এই সুরের মূর্ছনায় মুখর।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, নির্বাচনী এই গানগুলো প্রচারণায় এক ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে। সাধারণ মানুষের কাছে প্রার্থীর বার্তা সহজে পৌঁছে দেওয়ার এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীরা স্থানীয় শিল্পীদের দিয়ে নিজস্ব ঢঙে গান তৈরি করিয়ে নিচ্ছেন, যা আঞ্চলিক ভাষায় ভোটারদের আবেগ স্পর্শ করছে।
প্রচারণার এই নতুন ধারায় ব্যস্ততা বেড়েছে রাজশাহীর স্থানীয় রেকর্ডিং স্টুডিওগুলোতেও। দিনরাত এক করে সঙ্গীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পীরা তৈরি করছেন নতুন নতুন ট্র্যাক। শিল্পীরা বলছেন, নির্বাচনের এই সময়টাতে তাদের কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। প্রার্থীর পছন্দ অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে মানসম্মত গান উপহার দেওয়াই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে, এই সঙ্গীতময় প্রচারণা ভোটারদের মধ্যেও বেশ সাড়া ফেলেছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, একঘেয়ে বক্তৃতার চেয়ে সুরের মাধ্যমে প্রার্থীর পরিচিতি এবং মার্কা মনে রাখা অনেক সহজ হয়। তবে প্রচারণার এই উৎসব যেন জনদুর্ভোগ বা শব্দদূষণে রূপ না নেয়, সেদিকেও নজর রাখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। সব মিলিয়ে, রাজশাহীর নির্বাচনী লড়াইয়ে গানের এই লড়াই এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা নির্বাচনের আমেজকে আরও রঙিন করে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























