শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) চলমান সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া আলোচনার প্রস্তাব ও শর্তসমূহ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের পদত্যাগের একদফা দাবিতে অনড় থেকে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মূল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আপস বা শর্তযুক্ত আলোচনায় তারা অংশ নেবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসে বিরাজমান অচলাবস্থা নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাবে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যা আন্দোলনকারীদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসন মূল সংকট সমাধান না করে শর্তারোপের মাধ্যমে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা জানান, তাদের এই কর্মসূচি কেবল সাধারণ কোনো দাবি নয়, বরং এটি আত্মসম্মান ও অধিকার রক্ষার লড়াই। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনার পর থেকে তারা বর্তমান প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়েছেন। এমতাবস্থায় উপাচার্যের পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো শর্ত মেনে নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসা সম্ভব নয় বলে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের এই অনড় অবস্থানের কারণে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোর সামনে অবস্থান নিয়ে তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কথা বলা হলেও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
অন্যদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত কোনো কার্যকর ও সম্মানজনক সমাধান না এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে পড়তে পারে। ওদিকে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলবে।
রিপোর্টারের নাম 

























