আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কুড়িগ্রামের বালারহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নতুন সড়ক নির্মাণ শুরু করায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সমাধানের পথ খুঁজতে দুই বাহিনীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কাজের আগে বিজিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার আশ্বাস দিয়েছে।
মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখ নেই, তাই মঙ্গলবার) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বালারহাট বিওপির সীমান্ত এলাকায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিজিবি জানায়, বিএসএফ কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সীমান্ত পিলার ৯৩৪ এর ১৫০ গজের মধ্যে রাস্তা নির্মাণ শুরু করে। সীমান্ত প্রবিধান অনুযায়ী, জিরো লাইনের ১৫০ গজের মধ্যে যেকোনো নির্মাণ বা সংস্কার কাজের জন্য উভয় দেশের পূর্ব বিজ্ঞপ্তি এবং সমন্বয় বাধ্যতামূলক। বিজিবি এই নিয়ম লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে লালমনিরহাট ১৫-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষে ৩-বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট কে কে রাও নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকে বিজিবি অধিনায়ক ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের আগে বিজিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পরামর্শ দেন। এছাড়া, তিনি নির্মাণাধীন স্থানের প্রকৃত অবস্থা যাচাইয়ের জন্য উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সমন্বয়ে একটি ‘জয়েন্ট সার্ভে টিম’ গঠনের মাধ্যমে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
বিজিবির আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট কে কে রাও দাবি করেন, সেখানে নতুন কোনো রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে না, বরং বিদ্যমান সড়ক মেরামত করা হচ্ছে। তবে তিনি আশ্বাস দেন যে, ভবিষ্যতে রাস্তা প্রশস্তকরণ বা নতুন কোনো নির্মাণকাজ শুরু করার আগে বিজিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের শিমুলবাড়ী বিওপি সংলগ্ন নাগেশ্বরী সংযোগ সড়ক পাকাকরণের বিষয়েও আলোচনা হয়। বিএসএফ এই বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখে এবং আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব প্রাপ্তির সাপেক্ষে নৈতিক বিবেচনার আশ্বাস দেয়।
বৈঠক শেষে ১৫-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি গণমাধ্যমকে বলেন, বিজিবি কখনোই সীমান্ত আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি লঙ্ঘনের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না। সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি সবসময় কঠোর ও পেশাদার অবস্থান বজায় রাখবে।
রিপোর্টারের নাম 
























