ঢাকা ০৬:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনী প্রচারে ‘মানহানিকর বক্তব্য’: যুবদল নেতার বিরুদ্ধে রুমিন ফারহানার অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ‘অকথ্য ও মানহানিকর’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আশুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলমগীর খাঁর বিরুদ্ধে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ জানুয়ারি আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুরে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুবদল নেতা আলমগীর খাঁ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে মানহানিকর ও কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যে আলমগীর খাঁ বলেন— ‘রুমিন ফারহানা আর মমতাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই’। এছাড়া আরও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যা তার সমর্থক ও সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগপত্রের সঙ্গে উক্ত বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপও প্রমাণ হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রুমিন ফারহানা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর ফলে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দ্রুত এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা আলমগীর খাঁ বলেন, তার বক্তব্যটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাটছাঁট করা হয়েছে। তিনি মূলত বলতে চেয়েছিলেন, “মমতাজ সংসদে গিয়ে বেপরোয়া কথা বলেছে, আমাদের এলাকায় আরেকজনের আবির্ভাব হয়েছে।” এটিকে তিনি ‘স্লিপ অব টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। আলমগীর খাঁ আরও জানান, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সঙ্গে তার আগে ভালো সম্পর্ক ছিল।

অন্যদিকে, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেন, মাঠে তাদের (প্রতিপক্ষ) দুরবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তাদের মাথা ঠিকমতো কাজ করছে না। একদিকে দলের চাপ— জিতিয়ে আনতেই হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ এই প্রার্থীকে গ্রহণ করছে না। তিনি বলেন, মানুষকে তো গুলি করে ভোট দেওয়ানো যাবে না। তাই তারা তাকে গালাগালি করে নিজেদের রাগ কমানোর চেষ্টা করছেন।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন। তবে আসনটি জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। এ কারণে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি তার নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জিয়াউর রহমান শিক্ষাব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ভিত্তি তৈরি করেন’

নির্বাচনী প্রচারে ‘মানহানিকর বক্তব্য’: যুবদল নেতার বিরুদ্ধে রুমিন ফারহানার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:৫৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ‘অকথ্য ও মানহানিকর’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আশুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলমগীর খাঁর বিরুদ্ধে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ জানুয়ারি আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুরে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুবদল নেতা আলমগীর খাঁ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে মানহানিকর ও কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যে আলমগীর খাঁ বলেন— ‘রুমিন ফারহানা আর মমতাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই’। এছাড়া আরও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যা তার সমর্থক ও সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগপত্রের সঙ্গে উক্ত বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপও প্রমাণ হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রুমিন ফারহানা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর ফলে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দ্রুত এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা আলমগীর খাঁ বলেন, তার বক্তব্যটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাটছাঁট করা হয়েছে। তিনি মূলত বলতে চেয়েছিলেন, “মমতাজ সংসদে গিয়ে বেপরোয়া কথা বলেছে, আমাদের এলাকায় আরেকজনের আবির্ভাব হয়েছে।” এটিকে তিনি ‘স্লিপ অব টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। আলমগীর খাঁ আরও জানান, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সঙ্গে তার আগে ভালো সম্পর্ক ছিল।

অন্যদিকে, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেন, মাঠে তাদের (প্রতিপক্ষ) দুরবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তাদের মাথা ঠিকমতো কাজ করছে না। একদিকে দলের চাপ— জিতিয়ে আনতেই হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ এই প্রার্থীকে গ্রহণ করছে না। তিনি বলেন, মানুষকে তো গুলি করে ভোট দেওয়ানো যাবে না। তাই তারা তাকে গালাগালি করে নিজেদের রাগ কমানোর চেষ্টা করছেন।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন। তবে আসনটি জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। এ কারণে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি তার নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।