ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

জামায়াত এমপির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে ডা. তাসনিম জারার কড়া প্রতিক্রিয়া

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারীঘটিত ভাইরাল ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় এবার মুখ খুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।

ডা. তাসনিম জারা লিখেছেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওর মেয়েটির সিভি অনুযায়ী বয়স মাত্র আঠারো এবং সে এসএসসি শেষ করেই চাকরি খুঁজছে, যা তার পারিবারিক অভাবের চিত্র তুলে ধরে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গরিবের চাকরি কীভাবে হয়? পরীক্ষা, লাইনে দাঁড়িয়ে এবং সবশেষে কোনো ক্ষমতাবান মানুষের সুপারিশের মাধ্যমে। এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে তিনি এমপি সাহেবের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি আরও লেখেন, মেয়েটি হয়তো নিজের বা পরিবারের কারো মাধ্যমে সিভি নিয়ে এমপির কাছে গিয়েছিল। চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে তাকে কী দিতে হয়েছে, তা আমরা জানি না। এই ‘জানি না’ বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সম্ভাবনাটি কোনো সাধারণ কেলেঙ্কারি নয়। জামায়াতে ইসলামীর একজন সংসদ সদস্য তাঁর পদের প্রভাব খাটিয়ে একটি অসহায় মেয়েকে একা রুমে নিয়ে গেছেন এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ডা. তাসনিম জারা জোর দিয়ে বলেন, এটি প্রমাণ না হলেও, এই প্রশ্নটি সংসদের এড়ানো উচিত নয়। যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ সামনে এসেছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। অভিযোগ মিথ্যা হলে তিনি কলঙ্কমুক্ত হবেন, আর সত্য হলে ‘মহান সংসদ’ নামের মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সংসদ যদি এই বিষয়ে নীরব থাকে, তবে এর অর্থ হবে সংসদ গরিবকে শোষণ করার জন্য অথবা গরিবের মেয়ে এমপির দরজায় গেলে যা ইচ্ছা তা-ই করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি সুপারিশের ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, প্রতিবার নির্বাচনে দলগুলো দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার কথা বললেও সরকার ও দল বদলালেও সুপারিশের এই ব্যবস্থা বদলায় না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামে পাউবোর বাঁধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

জামায়াত এমপির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে ডা. তাসনিম জারার কড়া প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় : ০১:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারীঘটিত ভাইরাল ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় এবার মুখ খুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।

ডা. তাসনিম জারা লিখেছেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওর মেয়েটির সিভি অনুযায়ী বয়স মাত্র আঠারো এবং সে এসএসসি শেষ করেই চাকরি খুঁজছে, যা তার পারিবারিক অভাবের চিত্র তুলে ধরে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গরিবের চাকরি কীভাবে হয়? পরীক্ষা, লাইনে দাঁড়িয়ে এবং সবশেষে কোনো ক্ষমতাবান মানুষের সুপারিশের মাধ্যমে। এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে তিনি এমপি সাহেবের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি আরও লেখেন, মেয়েটি হয়তো নিজের বা পরিবারের কারো মাধ্যমে সিভি নিয়ে এমপির কাছে গিয়েছিল। চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে তাকে কী দিতে হয়েছে, তা আমরা জানি না। এই ‘জানি না’ বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সম্ভাবনাটি কোনো সাধারণ কেলেঙ্কারি নয়। জামায়াতে ইসলামীর একজন সংসদ সদস্য তাঁর পদের প্রভাব খাটিয়ে একটি অসহায় মেয়েকে একা রুমে নিয়ে গেছেন এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ডা. তাসনিম জারা জোর দিয়ে বলেন, এটি প্রমাণ না হলেও, এই প্রশ্নটি সংসদের এড়ানো উচিত নয়। যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ সামনে এসেছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। অভিযোগ মিথ্যা হলে তিনি কলঙ্কমুক্ত হবেন, আর সত্য হলে ‘মহান সংসদ’ নামের মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সংসদ যদি এই বিষয়ে নীরব থাকে, তবে এর অর্থ হবে সংসদ গরিবকে শোষণ করার জন্য অথবা গরিবের মেয়ে এমপির দরজায় গেলে যা ইচ্ছা তা-ই করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি সুপারিশের ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, প্রতিবার নির্বাচনে দলগুলো দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার কথা বললেও সরকার ও দল বদলালেও সুপারিশের এই ব্যবস্থা বদলায় না।