ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

তিন নির্বাচনে নির্লজ্জ ‘ভোট ডাকাতি’ ও কাগুজে রায় দেওয়া হয়েছে: প্রধান উপদেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘দুমড়ে-মুচড়ে’ দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে ‘কাগুজে রায়’ তৈরি করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ‘জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশন’ তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতাম। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে নিজেদের মনের মতো একটি কাগুজে রায় লিখে দেওয়া হয়েছে যে, এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। মানুষের টাকায় নির্বাচন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।” যারা এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল, ভবিষ্যতে এমন অপরাধ রোধে তাদের চেহারা জনসমক্ষে আনার ওপর তিনি জোর দেন।

সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে ভয়াবহ সব তথ্য উন্মোচন করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং বাকিগুলোতে সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখা হয়েছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বিজয় নিশ্চিত করা হয়। এমনকি কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশের বেশি দেখিয়ে প্রশাসনের ভেতরে এক ধরণের ‘অসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ তৈরি করা হয়েছিল। আর ২০২৪ সালে বিরোধী দলহীন নির্বাচনে ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়ে বিশ্বকে ধোঁকা দেওয়ার অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।

কমিশন তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, এই তিনটি নির্বাচনের পরিকল্পনাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে কার্যকর করা হয়েছিল। এটি বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি বিশেষ অংশকে ব্যবহার করা হয়, যাদের সমন্বয়ে একটি গোপনীয় ‘নির্বাচন সেল’ গঠিত হয়েছিল। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি নির্বাচন কমিশনের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে সুকৌশলে প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছিল। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কমিশন এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একগুচ্ছ সুপারিশও সরকারের কাছে পেশ করেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

চিকিৎসার খোঁজে নিজেই প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে হাজির অসুস্থ কাক!

তিন নির্বাচনে নির্লজ্জ ‘ভোট ডাকাতি’ ও কাগুজে রায় দেওয়া হয়েছে: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৪:০১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘দুমড়ে-মুচড়ে’ দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে ‘কাগুজে রায়’ তৈরি করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ‘জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশন’ তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতাম। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে নিজেদের মনের মতো একটি কাগুজে রায় লিখে দেওয়া হয়েছে যে, এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। মানুষের টাকায় নির্বাচন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।” যারা এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল, ভবিষ্যতে এমন অপরাধ রোধে তাদের চেহারা জনসমক্ষে আনার ওপর তিনি জোর দেন।

সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে ভয়াবহ সব তথ্য উন্মোচন করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং বাকিগুলোতে সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখা হয়েছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বিজয় নিশ্চিত করা হয়। এমনকি কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশের বেশি দেখিয়ে প্রশাসনের ভেতরে এক ধরণের ‘অসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ তৈরি করা হয়েছিল। আর ২০২৪ সালে বিরোধী দলহীন নির্বাচনে ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়ে বিশ্বকে ধোঁকা দেওয়ার অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।

কমিশন তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, এই তিনটি নির্বাচনের পরিকল্পনাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে কার্যকর করা হয়েছিল। এটি বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি বিশেষ অংশকে ব্যবহার করা হয়, যাদের সমন্বয়ে একটি গোপনীয় ‘নির্বাচন সেল’ গঠিত হয়েছিল। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি নির্বাচন কমিশনের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে সুকৌশলে প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছিল। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কমিশন এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একগুচ্ছ সুপারিশও সরকারের কাছে পেশ করেছে।