নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন বড় ভাই আবু বকর ছিদ্দিককে (৬৬) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তার ছোট ভাই হারুনুর রশিদকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা হারুনুর রশিদকে গতকাল রোববার রাতে ফেনী শহর থেকে আটক করা হয়।
আজ সোমবার দুপুরে র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী শহরের শহীদ সেলিনা পারভীন সড়ক এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত হারুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত হারুনুর রশিদ বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের তুলাচারা গ্রামের মৃত ছেলামত উল্যার ছেলে এবং নিহত আবু বকর ছিদ্দিকের আপন ছোট ভাই। তাদের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল বলে জানা গেছে।
র্যাব জানায়, গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে বসতবাড়ির সামনের জমিতে হাল চাষ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে নতুন করে বিবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে হারুনুর রশিদ ধারালো ছেনি দিয়ে বড় ভাই আবু বকর ছিদ্দিকের দুই পায়ের হাঁটুর নিচে এলোপাতাড়ি কোপ দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অন্যান্য অভিযুক্তরা তাকে লাথি ও কিলঘুষি মারে।
তাৎক্ষণিক স্বজনেরা আহত আবু বকর ছিদ্দিককে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় হারুনুর রশিদসহ ২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে আসামিরা পলাতক থাকলেও র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হারুনুর রশিদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে র্যাব জানিয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেগমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামসুজ্জামান সোমবার দুপুরে জানান, র্যাব-১১ গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে থানায় হস্তান্তর করেছে। হারুনুর রশিদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
রিপোর্টারের নাম 




















