ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

স্ট্যাটাস আপডেট থেকে বিশ্বজয়ী মেসেজিং অ্যাপ: যেভাবে শুরু হয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপের পথচলা

বর্তমান বিশ্বে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করছেন। তবে এর শুরুর গল্পটা মোটেও সহজ ছিল না। এর পেছনে রয়েছে দুই উদ্যোক্তার অদম্য জেদ, কঠোর পরিশ্রম আর এক রুশ প্রোগ্রামারের কারিগরি দক্ষতা।

হোয়াটসঅ্যাপের গল্পের শুরুটা ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। ইয়াহুর দুই প্রাক্তন কর্মী ব্রায়ান অ্যাক্টন এবং জান কৌম তখন নতুন কিছু করার কথা ভাবছিলেন। জান কৌম তখন একটি আইফোন কেনেন। অ্যাপ স্টোরের বিশাল সম্ভাবনা দেখে তিনি উপলব্ধি করেন, এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা সম্ভব যেখানে মানুষ নিজের তাৎক্ষণিক অবস্থা বা ‘স্ট্যাটাস’ লিখে রাখতে পারবে। এই ভাবনা থেকেই মূলত হোয়াটসঅ্যাপের ধারণাটি জন্ম নেয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেতে জান কৌমের রুশ বন্ধু অ্যালেক্স ফিশম্যানের বাড়িতে চলত এই প্রকল্পের পরিকল্পনা। আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে তারা একজন দক্ষ আইফোন ডেভেলপার খুঁজছিলেন। ফিশম্যানের মাধ্যমেই রাশিয়ান প্রোগ্রামার ইগর সোলোমেনিকভের সন্ধান পাওয়া যায়। মূলত তার কারিগরি সহায়তায় অ্যাপটির প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়। ইংরেজি ‘What’s Up’ (হোয়াটস আপ) শব্দটির সাথে মিল রেখে অ্যাপটির নাম রাখা হয় ‘WhatsApp’ (হোয়াটসঅ্যাপ)। ২০০৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয় ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইনকরপোরেটেড’।

তবে শুরুর দিকটা ছিল চরম হতাশাজনক। অ্যাপটির প্রাথমিক সংস্করণগুলো বারবার ক্র্যাশ করত। কারিগরি ত্রুটি ও প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় জান কৌম একপর্যায়ে হাল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি অন্য কোনো চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু সেই কঠিন সময়ে তাকে সাহস জোগান ব্রায়ান অ্যাক্টন। তিনি কৌমকে আরও কয়েক মাস ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন।

হোয়াটসঅ্যাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০০৯ সালের জুন মাসে। ওই সময় অ্যাপল তাদের আইফোনে ‘পুশ নোটিফিকেশন’ সুবিধা চালু করে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কৌম অ্যাপটিতে নতুন ফিচার যুক্ত করেন। এতে করে কোনো ব্যবহারকারী তার স্ট্যাটাস পরিবর্তন করলেই নেটওয়ার্কের সবার কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নোটিফিকেশন পৌঁছে যেত। এই একটি সাধারণ কারিগরি পরিবর্তনই অ্যাপটির জনপ্রিয়তা রাতারাতি বাড়িয়ে দেয় এবং একে একটি নিছক স্ট্যাটাস আপডেট অ্যাপ থেকে পূর্ণাঙ্গ মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের পথ প্রশস্ত করে। এভাবেই দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে যোগাযোগের সংজ্ঞাই বদলে দেয় আজকের এই হোয়াটসঅ্যাপ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে গুরুত্বারোপ

স্ট্যাটাস আপডেট থেকে বিশ্বজয়ী মেসেজিং অ্যাপ: যেভাবে শুরু হয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপের পথচলা

আপডেট সময় : ১২:০১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বর্তমান বিশ্বে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করছেন। তবে এর শুরুর গল্পটা মোটেও সহজ ছিল না। এর পেছনে রয়েছে দুই উদ্যোক্তার অদম্য জেদ, কঠোর পরিশ্রম আর এক রুশ প্রোগ্রামারের কারিগরি দক্ষতা।

হোয়াটসঅ্যাপের গল্পের শুরুটা ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। ইয়াহুর দুই প্রাক্তন কর্মী ব্রায়ান অ্যাক্টন এবং জান কৌম তখন নতুন কিছু করার কথা ভাবছিলেন। জান কৌম তখন একটি আইফোন কেনেন। অ্যাপ স্টোরের বিশাল সম্ভাবনা দেখে তিনি উপলব্ধি করেন, এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা সম্ভব যেখানে মানুষ নিজের তাৎক্ষণিক অবস্থা বা ‘স্ট্যাটাস’ লিখে রাখতে পারবে। এই ভাবনা থেকেই মূলত হোয়াটসঅ্যাপের ধারণাটি জন্ম নেয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেতে জান কৌমের রুশ বন্ধু অ্যালেক্স ফিশম্যানের বাড়িতে চলত এই প্রকল্পের পরিকল্পনা। আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে তারা একজন দক্ষ আইফোন ডেভেলপার খুঁজছিলেন। ফিশম্যানের মাধ্যমেই রাশিয়ান প্রোগ্রামার ইগর সোলোমেনিকভের সন্ধান পাওয়া যায়। মূলত তার কারিগরি সহায়তায় অ্যাপটির প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়। ইংরেজি ‘What’s Up’ (হোয়াটস আপ) শব্দটির সাথে মিল রেখে অ্যাপটির নাম রাখা হয় ‘WhatsApp’ (হোয়াটসঅ্যাপ)। ২০০৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয় ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইনকরপোরেটেড’।

তবে শুরুর দিকটা ছিল চরম হতাশাজনক। অ্যাপটির প্রাথমিক সংস্করণগুলো বারবার ক্র্যাশ করত। কারিগরি ত্রুটি ও প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় জান কৌম একপর্যায়ে হাল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি অন্য কোনো চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু সেই কঠিন সময়ে তাকে সাহস জোগান ব্রায়ান অ্যাক্টন। তিনি কৌমকে আরও কয়েক মাস ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন।

হোয়াটসঅ্যাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০০৯ সালের জুন মাসে। ওই সময় অ্যাপল তাদের আইফোনে ‘পুশ নোটিফিকেশন’ সুবিধা চালু করে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কৌম অ্যাপটিতে নতুন ফিচার যুক্ত করেন। এতে করে কোনো ব্যবহারকারী তার স্ট্যাটাস পরিবর্তন করলেই নেটওয়ার্কের সবার কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নোটিফিকেশন পৌঁছে যেত। এই একটি সাধারণ কারিগরি পরিবর্তনই অ্যাপটির জনপ্রিয়তা রাতারাতি বাড়িয়ে দেয় এবং একে একটি নিছক স্ট্যাটাস আপডেট অ্যাপ থেকে পূর্ণাঙ্গ মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের পথ প্রশস্ত করে। এভাবেই দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে যোগাযোগের সংজ্ঞাই বদলে দেয় আজকের এই হোয়াটসঅ্যাপ।