ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ইন্টারনেটে গতি ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ: ইথারনেট ক্যাবল নাকি ওয়াই-ফাই, কোনটি বেশি কার্যকর?

বর্তমান ডিজিটাল যুগে বাসা কিংবা কর্মক্ষেত্র—সবখানেই ইন্টারনেট এখন অপরিহার্য। তবে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন বা স্মার্ট টিভির জন্য সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা প্রায়ই একটি দোটানায় ভোগেন; সংযোগটি কি তারযুক্ত বা ইথারনেট ক্যাবল হবে, নাকি তারহীন ওয়াই-ফাই? আপাতদৃষ্টিতে উভয় মাধ্যম একই সেবা দিলেও এদের গতি, স্থিতিশীলতা এবং কার্যকারিতার ক্ষেত্রে রয়েছে বিস্তর ফারাক।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চগতির ইন্টারনেটের জন্য ইথারনেট ক্যাবল বা তারযুক্ত সংযোগ এখনো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। এই পদ্ধতিতে রাউটার থেকে সরাসরি ডিভাইসে ডেটা প্রবাহিত হয়, ফলে মাঝপথে সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না। যারা অনলাইন গেমিং, লাইভ স্ট্রিমিং, ভিডিও এডিটিং কিংবা বড় আকারের ফাইল আদান-প্রদান করেন, তাদের জন্য ক্যাবল সংযোগই আদর্শ। ইথারনেটের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর ‘লো ল্যাটেন্সি’ বা স্বল্প পিং রেট, যা ইন্টারনেটে কমান্ড দেওয়ার সাথে সাথে দ্রুত সাড়া নিশ্চিত করে। এছাড়া ক্যাবল সংযোগে সাধারণত সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুত গতির প্রায় পুরোটাই পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, ওয়াই-ফাই বা বেতার প্রযুক্তির প্রধান সুবিধা হলো এর ব্যবহারিক স্বাধীনতা। কোনো ধরনের তারের ঝামেলা ছাড়াই ঘরের যেকোনো প্রান্ত থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়, যা স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের মতো বহনযোগ্য ডিভাইসের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক। তবে এই স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। দেয়াল, আসবাবপত্র কিংবা দূরত্বের কারণে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এছাড়া একই এলাকায় অনেকগুলো ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক থাকলে সিগন্যাল ওভারল্যাপ হয়ে ইন্টারনেটের গতিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মূলত ব্যবহারের ধরন ও প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করেই মাধ্যম নির্বাচন করা উচিত। পেশাদার কাজ বা গেমিংয়ের জন্য যেখানে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ ও উচ্চগতি প্রয়োজন, সেখানে ইথারনেট ক্যাবল ব্যবহারের বিকল্প নেই। তবে সাধারণ ব্রাউজিং এবং একাধিক ডিভাইসে সহজে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ওয়াই-ফাই প্রযুক্তিই বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সমাধান। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে নিজের প্রয়োজন বুঝে সঠিক সংযোগটি বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জেদ্দায় তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দারের বৈঠক: সুদৃঢ় হচ্ছে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক

ইন্টারনেটে গতি ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ: ইথারনেট ক্যাবল নাকি ওয়াই-ফাই, কোনটি বেশি কার্যকর?

আপডেট সময় : ১২:২৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বর্তমান ডিজিটাল যুগে বাসা কিংবা কর্মক্ষেত্র—সবখানেই ইন্টারনেট এখন অপরিহার্য। তবে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন বা স্মার্ট টিভির জন্য সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা প্রায়ই একটি দোটানায় ভোগেন; সংযোগটি কি তারযুক্ত বা ইথারনেট ক্যাবল হবে, নাকি তারহীন ওয়াই-ফাই? আপাতদৃষ্টিতে উভয় মাধ্যম একই সেবা দিলেও এদের গতি, স্থিতিশীলতা এবং কার্যকারিতার ক্ষেত্রে রয়েছে বিস্তর ফারাক।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চগতির ইন্টারনেটের জন্য ইথারনেট ক্যাবল বা তারযুক্ত সংযোগ এখনো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। এই পদ্ধতিতে রাউটার থেকে সরাসরি ডিভাইসে ডেটা প্রবাহিত হয়, ফলে মাঝপথে সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না। যারা অনলাইন গেমিং, লাইভ স্ট্রিমিং, ভিডিও এডিটিং কিংবা বড় আকারের ফাইল আদান-প্রদান করেন, তাদের জন্য ক্যাবল সংযোগই আদর্শ। ইথারনেটের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর ‘লো ল্যাটেন্সি’ বা স্বল্প পিং রেট, যা ইন্টারনেটে কমান্ড দেওয়ার সাথে সাথে দ্রুত সাড়া নিশ্চিত করে। এছাড়া ক্যাবল সংযোগে সাধারণত সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুত গতির প্রায় পুরোটাই পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, ওয়াই-ফাই বা বেতার প্রযুক্তির প্রধান সুবিধা হলো এর ব্যবহারিক স্বাধীনতা। কোনো ধরনের তারের ঝামেলা ছাড়াই ঘরের যেকোনো প্রান্ত থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়, যা স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের মতো বহনযোগ্য ডিভাইসের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক। তবে এই স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। দেয়াল, আসবাবপত্র কিংবা দূরত্বের কারণে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এছাড়া একই এলাকায় অনেকগুলো ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক থাকলে সিগন্যাল ওভারল্যাপ হয়ে ইন্টারনেটের গতিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মূলত ব্যবহারের ধরন ও প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করেই মাধ্যম নির্বাচন করা উচিত। পেশাদার কাজ বা গেমিংয়ের জন্য যেখানে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ ও উচ্চগতি প্রয়োজন, সেখানে ইথারনেট ক্যাবল ব্যবহারের বিকল্প নেই। তবে সাধারণ ব্রাউজিং এবং একাধিক ডিভাইসে সহজে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ওয়াই-ফাই প্রযুক্তিই বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সমাধান। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে নিজের প্রয়োজন বুঝে সঠিক সংযোগটি বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।