ঢাকা ০১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতা: চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা আপিলেও বাতিল

দ্বৈত নাগরিকত্বের সপক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দাখিল করতে না পারায় চট্টগ্রাম-৯ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (১২ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানির নির্ধারিত কার্যক্রম শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখার ঘোষণা দেয় কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ডা. ফজলুল হক তার হলফনামায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের দাবি করলেও এর সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, গত ২৮ ডিসেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন। তবে আপিল শুনানিতেও এর স্বপক্ষে বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তার আবেদনটি খারিজ করে দেওয়া হয়।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জিয়াউদ্দীন একই কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন এই প্রার্থী। তবে চূড়ান্ত শুনানি শেষে সেখানেও তার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষিত হলো।

কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. এ কে এম ফজলুল হক গণমাধ্যমকে জানান, তিনি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, একই ধরনের জটিলতা থাকা সত্ত্বেও অন্য বড় দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রার্থিতা ফিরে পেতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

উল্লেখ্য, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় দেশের বিভিন্ন আসনে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন, যার ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম-৯ আসনের এই প্রার্থীর আবেদনটিও নাকচ হয়ে গেল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫০ বছর আগের চুক্তিতে ট্রানজিট চায় নেপাল, বিদ্যুৎ চায় বাংলাদেশ

দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতা: চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা আপিলেও বাতিল

আপডেট সময় : ১২:০৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

দ্বৈত নাগরিকত্বের সপক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দাখিল করতে না পারায় চট্টগ্রাম-৯ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (১২ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানির নির্ধারিত কার্যক্রম শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখার ঘোষণা দেয় কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ডা. ফজলুল হক তার হলফনামায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের দাবি করলেও এর সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, গত ২৮ ডিসেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন। তবে আপিল শুনানিতেও এর স্বপক্ষে বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তার আবেদনটি খারিজ করে দেওয়া হয়।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জিয়াউদ্দীন একই কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন এই প্রার্থী। তবে চূড়ান্ত শুনানি শেষে সেখানেও তার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষিত হলো।

কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. এ কে এম ফজলুল হক গণমাধ্যমকে জানান, তিনি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, একই ধরনের জটিলতা থাকা সত্ত্বেও অন্য বড় দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রার্থিতা ফিরে পেতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

উল্লেখ্য, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় দেশের বিভিন্ন আসনে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন, যার ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম-৯ আসনের এই প্রার্থীর আবেদনটিও নাকচ হয়ে গেল।