ঢাকা ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

বেনাপোল বন্দরে দুই সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ: ফের দাম বাড়ার শঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের পেঁয়াজ চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার নতুন করে আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) ইস্যু করা বন্ধ করায় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি গত দুই সপ্তাহ ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আমদানিকারকরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র থেকে জানা গেছে, দেশীয় উৎপাদন ও কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে পেঁয়াজ আমদানির নতুন আইপি দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও পুরনো আইপিগুলোর মেয়াদ চলতি মাসের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল আছে, তবে গত ২৪ ডিসেম্বরের পর থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে কোনো পেঁয়াজের চালান দেশে প্রবেশ করেনি। সর্বশেষ ২৪ ডিসেম্বর ৬০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। গত ১৫-২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয়টি চালানে ১৩টি ট্রাকে করে ৩৯০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল।

বেনাপোলের একজন পেঁয়াজ আমদানিকারক, রফিকুল ইসলাম রয়েল, জানান, গত এক সপ্তাহ আগেও বন্দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে আমদানির অনুমতি বন্ধের খবরে তা ৫০-৭০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার যদি দ্রুত আমদানির অনুমতি না দেয়, তাহলে বাজারে পেঁয়াজের দাম আবার ৮০-৮৫ টাকায় পৌঁছাতে পারে। আমরা নতুন আইপির জন্য আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদন পাইনি। এতে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে।”

এ ব্যাপারে বেনাপোল স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ নিশ্চিত করেছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে কোনো আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে, পূর্বের ইস্যু করা আইপি-এর বিপরীতে চলতি মাসের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পণ্যটি আমদানি করার সুযোগ রয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর গত ৭ ডিসেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি পুনরায় শুরু হয়েছিল। প্রথমদিকে আমদানির পরিমাণ কম থাকলেও পরবর্তীতে অনুমতি বাড়ানোয় দেশের বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু নতুন করে অনুমতি বন্ধ করায় বাজারে আবার অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেটে ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সুবিধা: বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সরকারের পদক্ষেপ

বেনাপোল বন্দরে দুই সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ: ফের দাম বাড়ার শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৬:৪০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের পেঁয়াজ চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার নতুন করে আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) ইস্যু করা বন্ধ করায় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি গত দুই সপ্তাহ ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আমদানিকারকরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র থেকে জানা গেছে, দেশীয় উৎপাদন ও কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে পেঁয়াজ আমদানির নতুন আইপি দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও পুরনো আইপিগুলোর মেয়াদ চলতি মাসের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল আছে, তবে গত ২৪ ডিসেম্বরের পর থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে কোনো পেঁয়াজের চালান দেশে প্রবেশ করেনি। সর্বশেষ ২৪ ডিসেম্বর ৬০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। গত ১৫-২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয়টি চালানে ১৩টি ট্রাকে করে ৩৯০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল।

বেনাপোলের একজন পেঁয়াজ আমদানিকারক, রফিকুল ইসলাম রয়েল, জানান, গত এক সপ্তাহ আগেও বন্দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে আমদানির অনুমতি বন্ধের খবরে তা ৫০-৭০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার যদি দ্রুত আমদানির অনুমতি না দেয়, তাহলে বাজারে পেঁয়াজের দাম আবার ৮০-৮৫ টাকায় পৌঁছাতে পারে। আমরা নতুন আইপির জন্য আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদন পাইনি। এতে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে।”

এ ব্যাপারে বেনাপোল স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ নিশ্চিত করেছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে কোনো আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে, পূর্বের ইস্যু করা আইপি-এর বিপরীতে চলতি মাসের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পণ্যটি আমদানি করার সুযোগ রয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর গত ৭ ডিসেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি পুনরায় শুরু হয়েছিল। প্রথমদিকে আমদানির পরিমাণ কম থাকলেও পরবর্তীতে অনুমতি বাড়ানোয় দেশের বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু নতুন করে অনুমতি বন্ধ করায় বাজারে আবার অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।