ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিসিবি পরিচালকের বিতর্কিত মন্তব্য: তামিমকে ‘ভারতীয় এজেন্ট’ আখ্যা, ক্রিকেট অঙ্গনে প্রতিবাদের ঝড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে এখন তীব্র আলোড়ন। সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের এক বিতর্কিত ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন দেশের ক্রিকেটাররা। বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও (কোয়াব) এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পরিচালকের ক্ষমা ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিসিবির ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি তামিম ইকবাল এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বাংলাদেশের ম্যাচসমূহ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের আলোচনা প্রসঙ্গে তামিমের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের জন্ম।

বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একাধিক পোস্ট দেন। একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এইবার আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় এজেন্টের আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।’ অপর এক পোস্টে তিনি পরোক্ষভাবে তামিমকে ইঙ্গিত করে উল্লেখ করেন, মোস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশ দল যখন ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিল এবং ক্রীড়া ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টারা ম্যাচ স্থানান্তরের পক্ষে মত দিয়েছিলেন, তখন ‘দেশের জনগণের সেন্টিমেন্টের বাইরে গিয়ে ভারতীয়দের হয়ে ব্যাট করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের জার্সিতে ১৫ হাজার রান করা এক লিজেন্ডারি ক্রিকেটার’।

বিসিবি পরিচালকের এমন মন্তব্যের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদ তার প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন, ‘ক্রিকেট বাংলাদেশের প্রাণ। সেই ক্রিকেটে বড় অবদান রাখা সাবেক জাতীয় অধিনায়ককে ঘিরে সাম্প্রতিক এক মন্তব্য অনেককেই ভাবিয়েছে। দেশের একজন সাবেক ক্রিকেটারকে উদ্দেশ্য করে এ ধরনের বক্তব্য দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে সহায়ক নয় বলেই মনে করি। আশা করি, সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল অবস্থান নেবে।’

বামহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে পরিচালকের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘দায়িত্বশীল একটি পদে থেকে প্রকাশ্য এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া বোর্ড কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা ও আচরণবিধি নিয়েই গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি তাকে যথাযথ জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

সাবেক অধিনায়ক মমিনুল হকও এই মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের ক্রিকেট সমাজের প্রতি অপমানজনক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একজন ক্রিকেটারের প্রতি এমন আচরণ বোর্ডের দায়িত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে ন্যূনতম সম্মানও দেওয়া হয়নি; বরং তাকে জনসম্মুখে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করা হয়েছে। এত বড় দায়িত্বে বসে কোথায় এবং কীভাবে কথা বলতে হয়, তার বেসিক শিষ্টাচারও এ ধরনের মন্তব্যে দেখা যায়নি। আমি এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ও তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। বিসিবিকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

ক্রিকেটারদের এই প্রতিবাদের স্রোতে শামিল হয়েছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। এক বিবৃতিতে তারা এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্যে ‘স্তব্ধ, বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ’ হওয়ার কথা জানিয়েছে। কোয়াব এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, ‘একজন দায়িত্বশীল বোর্ড পরিচালক যখন পাবলিক প্ল্যাটফর্মে এমন মন্তব্য করেন, তখন বোর্ড কর্মকর্তাদের আচরণবিধি নিয়েও আমাদের প্রশ্ন জাগে। বিসিবি সভাপতির কাছে এরই মধ্যে আমরা প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ড পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চওয়াসহ তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি। আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন বিসিবি সভাপতি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আলবানিজের পরিবারের মামলা: ফিলিস্তিন ইস্যুতে আইনি লড়াই

বিসিবি পরিচালকের বিতর্কিত মন্তব্য: তামিমকে ‘ভারতীয় এজেন্ট’ আখ্যা, ক্রিকেট অঙ্গনে প্রতিবাদের ঝড়

আপডেট সময় : ০৪:২৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে এখন তীব্র আলোড়ন। সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের এক বিতর্কিত ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন দেশের ক্রিকেটাররা। বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও (কোয়াব) এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পরিচালকের ক্ষমা ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিসিবির ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি তামিম ইকবাল এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বাংলাদেশের ম্যাচসমূহ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের আলোচনা প্রসঙ্গে তামিমের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের জন্ম।

বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একাধিক পোস্ট দেন। একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এইবার আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় এজেন্টের আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।’ অপর এক পোস্টে তিনি পরোক্ষভাবে তামিমকে ইঙ্গিত করে উল্লেখ করেন, মোস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশ দল যখন ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিল এবং ক্রীড়া ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টারা ম্যাচ স্থানান্তরের পক্ষে মত দিয়েছিলেন, তখন ‘দেশের জনগণের সেন্টিমেন্টের বাইরে গিয়ে ভারতীয়দের হয়ে ব্যাট করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের জার্সিতে ১৫ হাজার রান করা এক লিজেন্ডারি ক্রিকেটার’।

বিসিবি পরিচালকের এমন মন্তব্যের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদ তার প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন, ‘ক্রিকেট বাংলাদেশের প্রাণ। সেই ক্রিকেটে বড় অবদান রাখা সাবেক জাতীয় অধিনায়ককে ঘিরে সাম্প্রতিক এক মন্তব্য অনেককেই ভাবিয়েছে। দেশের একজন সাবেক ক্রিকেটারকে উদ্দেশ্য করে এ ধরনের বক্তব্য দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে সহায়ক নয় বলেই মনে করি। আশা করি, সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল অবস্থান নেবে।’

বামহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে পরিচালকের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘দায়িত্বশীল একটি পদে থেকে প্রকাশ্য এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া বোর্ড কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা ও আচরণবিধি নিয়েই গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি তাকে যথাযথ জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

সাবেক অধিনায়ক মমিনুল হকও এই মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের ক্রিকেট সমাজের প্রতি অপমানজনক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একজন ক্রিকেটারের প্রতি এমন আচরণ বোর্ডের দায়িত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে ন্যূনতম সম্মানও দেওয়া হয়নি; বরং তাকে জনসম্মুখে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করা হয়েছে। এত বড় দায়িত্বে বসে কোথায় এবং কীভাবে কথা বলতে হয়, তার বেসিক শিষ্টাচারও এ ধরনের মন্তব্যে দেখা যায়নি। আমি এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ও তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। বিসিবিকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

ক্রিকেটারদের এই প্রতিবাদের স্রোতে শামিল হয়েছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। এক বিবৃতিতে তারা এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্যে ‘স্তব্ধ, বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ’ হওয়ার কথা জানিয়েছে। কোয়াব এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, ‘একজন দায়িত্বশীল বোর্ড পরিচালক যখন পাবলিক প্ল্যাটফর্মে এমন মন্তব্য করেন, তখন বোর্ড কর্মকর্তাদের আচরণবিধি নিয়েও আমাদের প্রশ্ন জাগে। বিসিবি সভাপতির কাছে এরই মধ্যে আমরা প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ড পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চওয়াসহ তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি। আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন বিসিবি সভাপতি।’