বছরের শুরুতেই দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় এক শ্বাসরুদ্ধকর সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ ভোরে কারাকাসে পরিচালিত এই অভিযানের কোড নেম ছিল ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি ‘সুষ্ঠু ও বিচারবিভাগীয় রূপান্তর’ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই সাময়িকভাবে ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে দেশটির বিশাল তেলের মজুত পুনর্গঠনে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মাদক পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিচালিত এই অভিযান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ও বিএসএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোররাতে দেড় শতাধিক বিমান ও হেলিকপ্টারের সহায়তায় এই অভিযান শুরু হয়। মার্কিন কমান্ডোরা কারাকাসে মাদুরোর সুরক্ষিত বাসভবন থেকে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে সরাসরি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আইয়ো জিমা’-তে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাঁদের নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়েছে, যেখানে মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদের (Narco-terrorism) অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ৫ জানুয়ারি তাঁকে ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
ভেনেজুয়েলা ও তেলের মজুত নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা
মার-এ-লাগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো বর্তমানে জরাজীর্ণ। তিনি বিশ্বের বড় বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে সেখানে পাঠাতে চান, যারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে উৎপাদন শুরু করবে। ট্রাম্পের ভাষায়, এর ফলে ভেনেজুয়েলা যেমন অর্থ উপার্জন করবে, তেমনি বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহও নিশ্চিত হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় এবং স্থিতিশীলতা না ফেরা পর্যন্ত দেশটির নিয়ন্ত্রণ তাঁর প্রশাসনের হাতেই থাকবে।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
মাদুরোকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে কারাকাসের রাস্তায় তাঁর সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাডো এই পদক্ষেপকে ‘মুক্তির মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক মহলে এই অভিযান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে:
- রাশিয়া ও চীন: এই অভিযানকে সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং মাদুরোর মুক্তি দাবি করেছে।
- ব্রাজিল ও কলম্বিয়া: এই পদক্ষেপ ল্যাটিন আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক নজির হয়ে থাকবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
- ফ্রান্স ও স্পেন: সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছে।
- আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডর: ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘স্বাধীনতার জয়’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
তেল শিল্পের ভবিষ্যৎ ও চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের বৃহত্তম (৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল) তেলের মজুত থাকলেও অবকাঠামো ঠিক করে উৎপাদন বাড়াতে অন্তত ১০ বছর সময় এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। ট্রাম্পের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























