উন্নত চিকিৎসার জন্য ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) থাইল্যান্ডের ব্যাংকক হাসপাতালে নেওয়া হবে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদি।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালেই হাদিকে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে নিয়ে যেতে চান তারা। এজন্য এরই মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এজন্য ৫২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর আগেই সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, হাদির চিকিৎসার সব খরচ সরকার বহন করবে। তবে এর সবকিছুই হবে চিকিৎসকের অনুমোদন সাপেক্ষে।
এদিকে, রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউ ও এইচডিইউ কো-অর্ডিনেটর এবং সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. জাফর ইকবাল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন হাদির সর্বশেষ সিটি স্ক্যানে দেখা গেছে, তার মস্তিষ্কের ফোলা আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ক্লিনিক্যাল পরিস্থিতি।
মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রেন স্টেমে আঘাত এবং বাড়তি সেরিব্রাল ইডেমার কারণে রোগীর রক্তচাপে ওঠানামা হচ্ছে। একইসঙ্গে আজ তার হৃদস্পন্দনও স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে রক্তচাপ ও হৃদযন্ত্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সাপোর্ট অব্যাহত রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হাদির কিডনির কার্যক্ষমতা আপাতত বজায় আছে এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কিছুটা কমেছে। তবে ব্রেন ইনজুরির কারণে শরীরের হরমোনগত ভারসাম্যহীনতা দেখা দেওয়ায় প্রতি ঘণ্টায় ইউরিন উৎপাদনে তারতম্য হচ্ছে। এজন্য এসিড-বেস ব্যালেন্স, ফ্লুইড ও ইলেক্ট্রোলাইট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এতে বলা হয়েছে, রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তক্ষরণের ভারসাম্যহীনতা বর্তমানে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে ব্লাড সুগার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, যা এ ধরনের সংকটাপন্ন রোগীর ক্ষেত্রে একটি বড় ক্লিনিক্যাল চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে ফুসফুসের কার্যকারিতা ও ভেন্টিলেটর সাপোর্ট বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি বা অবনতি হয়নি। চেস্ট ড্রেইন টিউব সচল রয়েছে বলে জানিয়েছে মেডিকেল বোর্ড।
মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, ওসমান হাদির সার্বিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তবে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সমন্বয়ের মাধ্যমে তাকে সর্বোত্তম চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। পরিবার অথবা পরিবারের মাধ্যমে সরকার চাইলে তাকে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মেডিকেল বোর্ড সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানানো হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























