ঢাকা ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

টাকা ছিনতাইয়ের পর কুপিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন: সেই খোকন দাসের মৃত্যু

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলার শিকার গ্রাম্য ডাক্তার খোকন দাস মারা গেছেন। হামলার চার দিন পর শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যায়। এ তথ্য নিশ্চিত করেন ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় খোকনের ওপর এ হামলা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কেউরভাঙ্গা বাজারে একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত তাকে পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে এবং সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। টাকা ছিনতাইয়ের পর চিনে ফেলায় তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে মারা যান।

এ ঘটনায় খোকন দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্লার ছেলে রাব্বি মোল্লা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদারকে (২৫) আসামি করা হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, খোকন দাসের হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।

খোকন দাসের বোন আন্না রানী দাস জানান, তার ভাইয়ের হত্যাকারীদের যেন আইনের আওতায় এনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বিচার করা হয়।

বোন রিমা দাস বলেন, ‘চার দিন হয়ে গেলো এখনও কোনও আসামি পুলিশ ধরতে পারেনি। আমরা সংশয়ে আছি, বিচার পাবো কিনা? আমরা চাই, দ্রুত যেন আসামি ধরা হয়।’

খোনক দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমার ছেলে তিন জনের নাম বলে গেছে, ওই তিন জনের নামেই আমরা মামলা করেছি। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করছি।’

ডামুড্যা থানার ওসি জানান, আজ সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোকন মারা যান। এ ঘটনায় তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখনও কোনও আসামি ধরা পড়েনি, তবে ধরার চেষ্টা চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানালেন খলিলুর রহমান

টাকা ছিনতাইয়ের পর কুপিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন: সেই খোকন দাসের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৬:০৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলার শিকার গ্রাম্য ডাক্তার খোকন দাস মারা গেছেন। হামলার চার দিন পর শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যায়। এ তথ্য নিশ্চিত করেন ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় খোকনের ওপর এ হামলা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কেউরভাঙ্গা বাজারে একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত তাকে পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে এবং সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। টাকা ছিনতাইয়ের পর চিনে ফেলায় তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে মারা যান।

এ ঘটনায় খোকন দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্লার ছেলে রাব্বি মোল্লা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদারকে (২৫) আসামি করা হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, খোকন দাসের হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।

খোকন দাসের বোন আন্না রানী দাস জানান, তার ভাইয়ের হত্যাকারীদের যেন আইনের আওতায় এনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বিচার করা হয়।

বোন রিমা দাস বলেন, ‘চার দিন হয়ে গেলো এখনও কোনও আসামি পুলিশ ধরতে পারেনি। আমরা সংশয়ে আছি, বিচার পাবো কিনা? আমরা চাই, দ্রুত যেন আসামি ধরা হয়।’

খোনক দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমার ছেলে তিন জনের নাম বলে গেছে, ওই তিন জনের নামেই আমরা মামলা করেছি। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করছি।’

ডামুড্যা থানার ওসি জানান, আজ সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোকন মারা যান। এ ঘটনায় তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখনও কোনও আসামি ধরা পড়েনি, তবে ধরার চেষ্টা চলছে।