ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ভিভিআইপি সুরক্ষা: ইউনূস, খালেদা থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথি, কারা পান এই বিশেষ মর্যাদা?

রাষ্ট্রের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভিভিআইপি মর্যাদা সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়, যার ফলে তিনি এক বছর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। কিন্তু কে এই ভিভিআইপি? কারা পান এই বিশেষ সুরক্ষা এবং এর আইনি ভিত্তি কী?

‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১’ অনুযায়ী, সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি যে কাউকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করতে পারে। এই আইনের ধারা ২ স্পষ্ট করে যে, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে এই মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও, সরকার যাকে প্রয়োজন মনে করবে, তাকেও একই মর্যাদা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার মতো পদাধিকারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিভিআইপি মর্যাদা পান; তাদের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে এই ঘোষণা সাধারণত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়।

ড. ইউনূসের আগেও এই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা ও রাষ্ট্রীয় অতিথিরা স্থান পেয়েছেন:

বেগম খালেদা জিয়া: ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে। সে সময় তিনি বার্ধক্যজনিত নানা স্বাস্থ্য জটিলতার কারণে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যবৃন্দ: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর সংসদে ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) বিল–২০২১’ পাস হয়। এই বিল অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা, তাদের সন্তানাদি, ক্ষেত্রবিশেষে তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং তাদের সন্তানরাও স্থায়ীভাবে এসএসএফ-এর নিরাপত্তার আওতায় থাকবেন।
রাষ্ট্রীয় অতিথি: বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানদের ভিভিআইপি ঘোষণা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এলে তাকে তিন দিনের জন্য গেজেটের মাধ্যমে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল, যা রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল ও সম্মান প্রদর্শনের অংশ।

আইন অনুযায়ী ঘোষিত ভিভিআইপিদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। এই বাহিনী শুধুমাত্র শারীরিক সুরক্ষাই দেয় না, সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় করে, প্রয়োজনে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে এবং চরম পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষামূলক প্রাণঘাতী ব্যবস্থাও নিতে পারে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি, জাতীয় নেতা বা সংবেদনশীল সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এটি কেবল একটি সম্মানসূচক পদবি নয়, বরং আইনগত সুরক্ষা ও রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিশ্চয়তা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিভিন্ন স্থানে নারী-শিশু ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের উদ্বেগ

ভিভিআইপি সুরক্ষা: ইউনূস, খালেদা থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথি, কারা পান এই বিশেষ মর্যাদা?

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

রাষ্ট্রের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভিভিআইপি মর্যাদা সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়, যার ফলে তিনি এক বছর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। কিন্তু কে এই ভিভিআইপি? কারা পান এই বিশেষ সুরক্ষা এবং এর আইনি ভিত্তি কী?

‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১’ অনুযায়ী, সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি যে কাউকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করতে পারে। এই আইনের ধারা ২ স্পষ্ট করে যে, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে এই মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও, সরকার যাকে প্রয়োজন মনে করবে, তাকেও একই মর্যাদা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার মতো পদাধিকারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিভিআইপি মর্যাদা পান; তাদের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে এই ঘোষণা সাধারণত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়।

ড. ইউনূসের আগেও এই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা ও রাষ্ট্রীয় অতিথিরা স্থান পেয়েছেন:

বেগম খালেদা জিয়া: ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে। সে সময় তিনি বার্ধক্যজনিত নানা স্বাস্থ্য জটিলতার কারণে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যবৃন্দ: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর সংসদে ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) বিল–২০২১’ পাস হয়। এই বিল অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা, তাদের সন্তানাদি, ক্ষেত্রবিশেষে তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং তাদের সন্তানরাও স্থায়ীভাবে এসএসএফ-এর নিরাপত্তার আওতায় থাকবেন।
রাষ্ট্রীয় অতিথি: বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানদের ভিভিআইপি ঘোষণা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এলে তাকে তিন দিনের জন্য গেজেটের মাধ্যমে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল, যা রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল ও সম্মান প্রদর্শনের অংশ।

আইন অনুযায়ী ঘোষিত ভিভিআইপিদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। এই বাহিনী শুধুমাত্র শারীরিক সুরক্ষাই দেয় না, সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় করে, প্রয়োজনে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে এবং চরম পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষামূলক প্রাণঘাতী ব্যবস্থাও নিতে পারে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি, জাতীয় নেতা বা সংবেদনশীল সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এটি কেবল একটি সম্মানসূচক পদবি নয়, বরং আইনগত সুরক্ষা ও রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিশ্চয়তা।