ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

অবসর ঘোষণার সময় খাজা বললেন, ‘বর্ণের কারণে আলাদা আচরণ পেয়েছি’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

অবসরের ঘোষণার সময় বর্ণবাদ আর বৈষম্য নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন উসমান খাজা। অ্যাশেজের শুরুতে পিঠের চোট নিয়ে যে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে, তাতে বর্ণবাদী ইঙ্গিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন অজি ব্যাটার। একই সঙ্গে বলেছেন, পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই অন্য অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের তুলনায় তাকে ভিন্নভাবে দেখা হয়েছে। যা তাকে কষ্ট দিয়েছে ভীষণভাবে।

শুক্রবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) প্রায় ৫০ মিনিটের এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন খাজা। রবিবার শুরু হতে যাওয়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম টেস্ট দিয়েই শেষ হবে তার আন্তর্জাতিক অধ্যায়।

স্ত্রী র‍্যাচেল, দুই কন্যা, বাবা-মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রথমবারের মতো খোলামেলা কথা বলেন তিনি। সেখানেই জানান, অ্যাশেজে পার্থ টেস্টের আগে তিন দিন গলফ খেলার পর ব্যাক স্প্যাজমে ওপেন করতে না পারায় যে সমালোচনা হয়েছিল, তা তাকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল।

পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম টেস্ট ক্রিকেটার খাজা বলেন, এই সমালোচনা তার পুরো ক্যারিয়ারে পাওয়া বৈষম্যমূলক আচরণেরই ধারাবাহিকত, ‘আমি সব সময়ই নিজেকে একটু ভিন্ন মনে করেছি, এখনও করি। কারণ আমি মিশ্র বর্ণের ক্রিকেটার। আমার কাছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলই আমাদের সেরা দল, গর্বের জায়গা। কিন্তু একই সঙ্গে আমাকে অনেক দিক থেকেই আলাদা করে দেখা হয়েছে আচরণে। আমার পিঠে স্প্যাজম ছিল, এটা আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। কিন্তু যেভাবে মিডিয়া আর সাবেক ক্রিকেটাররা আমাকে আক্রমণ করেছেন—তা আমি দুই দিন সহ্য করতে পারতাম, কিন্তু টানা পাঁচ দিন চলেছে। বিষয়টা আমার পারফরম্যান্স নিয়েও ছিল না।’

খাজার মতে, ‘এটা ছিল একেবারেই ব্যক্তিগত, যা মোটেই আমার প্রস্তুতি নিয়ে ছিল না। বলা হয়েছে আমি নাকি দল নিয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নই, শুধু নিজের কথা ভাবি, আগের দিন গলফ খেলেছি, স্বার্থপর, ঠিকমতো অনুশীলন করি না, অলস। এগুলো সেই একই স্টেরিওটাইপ—বর্ণবাদী স্টেরিওটাইপ—যার সঙ্গে আমি ছোটবেলা থেকেই বড় হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম মিডিয়া আর সাবেক খেলোয়াড়রা এসবের ঊর্ধ্বে উঠে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা পুরোপুরি সেখান থেকে বের হতে পারিনি। কারণ, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলে আগে কারও প্রতি এমন ব্যবহার হতে দেখিনি।’

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে গলফ খেলতে গিয়ে চোট পাওয়ার উদাহরণ নতুন নয়। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গলফ খেলতে গিয়ে হাতে কেটে যাওয়ায় ছিটকে গিয়েছিলেন জশ ইংলিস। ২০২৩ বিশ্বকাপে গলফ কার্ট থেকে পড়ে কনকাশনে ভুগে একটি ওয়ানডে খেলতে পারেননি গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও।

খাজা বলেন, এমন অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যাবে, যেখানে অন্য খেলোয়াড়রা একই পরিস্থিতিতে পড়লেও এতটা সমালোচনার মুখে পড়েননি। এর কারণ তাদের বর্ণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

অবসর ঘোষণার সময় খাজা বললেন, ‘বর্ণের কারণে আলাদা আচরণ পেয়েছি’

আপডেট সময় : ০২:২৮:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

অবসরের ঘোষণার সময় বর্ণবাদ আর বৈষম্য নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন উসমান খাজা। অ্যাশেজের শুরুতে পিঠের চোট নিয়ে যে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে, তাতে বর্ণবাদী ইঙ্গিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন অজি ব্যাটার। একই সঙ্গে বলেছেন, পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই অন্য অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের তুলনায় তাকে ভিন্নভাবে দেখা হয়েছে। যা তাকে কষ্ট দিয়েছে ভীষণভাবে।

শুক্রবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) প্রায় ৫০ মিনিটের এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন খাজা। রবিবার শুরু হতে যাওয়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম টেস্ট দিয়েই শেষ হবে তার আন্তর্জাতিক অধ্যায়।

স্ত্রী র‍্যাচেল, দুই কন্যা, বাবা-মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রথমবারের মতো খোলামেলা কথা বলেন তিনি। সেখানেই জানান, অ্যাশেজে পার্থ টেস্টের আগে তিন দিন গলফ খেলার পর ব্যাক স্প্যাজমে ওপেন করতে না পারায় যে সমালোচনা হয়েছিল, তা তাকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল।

পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম টেস্ট ক্রিকেটার খাজা বলেন, এই সমালোচনা তার পুরো ক্যারিয়ারে পাওয়া বৈষম্যমূলক আচরণেরই ধারাবাহিকত, ‘আমি সব সময়ই নিজেকে একটু ভিন্ন মনে করেছি, এখনও করি। কারণ আমি মিশ্র বর্ণের ক্রিকেটার। আমার কাছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলই আমাদের সেরা দল, গর্বের জায়গা। কিন্তু একই সঙ্গে আমাকে অনেক দিক থেকেই আলাদা করে দেখা হয়েছে আচরণে। আমার পিঠে স্প্যাজম ছিল, এটা আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। কিন্তু যেভাবে মিডিয়া আর সাবেক ক্রিকেটাররা আমাকে আক্রমণ করেছেন—তা আমি দুই দিন সহ্য করতে পারতাম, কিন্তু টানা পাঁচ দিন চলেছে। বিষয়টা আমার পারফরম্যান্স নিয়েও ছিল না।’

খাজার মতে, ‘এটা ছিল একেবারেই ব্যক্তিগত, যা মোটেই আমার প্রস্তুতি নিয়ে ছিল না। বলা হয়েছে আমি নাকি দল নিয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নই, শুধু নিজের কথা ভাবি, আগের দিন গলফ খেলেছি, স্বার্থপর, ঠিকমতো অনুশীলন করি না, অলস। এগুলো সেই একই স্টেরিওটাইপ—বর্ণবাদী স্টেরিওটাইপ—যার সঙ্গে আমি ছোটবেলা থেকেই বড় হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম মিডিয়া আর সাবেক খেলোয়াড়রা এসবের ঊর্ধ্বে উঠে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা পুরোপুরি সেখান থেকে বের হতে পারিনি। কারণ, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলে আগে কারও প্রতি এমন ব্যবহার হতে দেখিনি।’

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে গলফ খেলতে গিয়ে চোট পাওয়ার উদাহরণ নতুন নয়। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গলফ খেলতে গিয়ে হাতে কেটে যাওয়ায় ছিটকে গিয়েছিলেন জশ ইংলিস। ২০২৩ বিশ্বকাপে গলফ কার্ট থেকে পড়ে কনকাশনে ভুগে একটি ওয়ানডে খেলতে পারেননি গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও।

খাজা বলেন, এমন অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যাবে, যেখানে অন্য খেলোয়াড়রা একই পরিস্থিতিতে পড়লেও এতটা সমালোচনার মুখে পড়েননি। এর কারণ তাদের বর্ণ।