ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আসাম ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশের জঙ্গিগোষ্ঠী “ইমাম মাহমুদে কাফেলা” সংগঠনের সক্রিয় ১১ জন গ্রেপ্তার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম ও ত্রিপুরায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ-ভিত্তিক উগ্রপন্থী সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফিলা’ (IMK)-এর ১১ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আসাম পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে আসামের বারপেটা, চিরাং, বক্সা ও দরং জেলা এবং ত্রিপুরার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। ৩০ ডিসেম্বর গুয়াহাটিতে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর একটি নতুন শাখার সদস্য। উত্তর-পূর্ব ভারতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ মতাদর্শ প্রচারই ছিল এই গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য। ধৃতদের মধ্যে ১০ জন আসামের এবং ১ জন ত্রিপুরার বাসিন্দা।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই জঙ্গি মডিউলটি ‘পূর্ব আকাশ’ নামক একটি এনক্রিপ্টেড সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণদের মগজ ধোলাই এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজ করত। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এই সংগঠনের সদস্যরা সরাসরি বাংলাদেশ-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের নির্দেশে পরিচালিত হতো। বারপেটা রোডের নাসিম উদ্দিন ওরফে তামিমকে এই আসাম সেলের প্রধান হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে গিয়ে সরাসরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে এবং হিজরতের নামে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত করেছে বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া হাওলা ও ইউপিআই (UPI) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে এসটিএফ।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সরকার পরিবর্তনের পর সে দেশের উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। পুলিশের দাবি, ধৃতরা ইমাম মাহমুদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ‘বায়াত’ গ্রহণ করেছিল এবং স্থানীয় মসজিদগুলোতে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে সশস্ত্র সংগ্রামের উসকানি দিচ্ছিল। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত ১১ জনের বিরুদ্ধে কঠোর ইউএপিএ (UAPA) এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের ধরতে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়াসা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি: সভাপতি মনিরুজ্জামান, সম্পাদক নূর

আসাম ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশের জঙ্গিগোষ্ঠী “ইমাম মাহমুদে কাফেলা” সংগঠনের সক্রিয় ১১ জন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১২:০৮:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম ও ত্রিপুরায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ-ভিত্তিক উগ্রপন্থী সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফিলা’ (IMK)-এর ১১ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আসাম পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে আসামের বারপেটা, চিরাং, বক্সা ও দরং জেলা এবং ত্রিপুরার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। ৩০ ডিসেম্বর গুয়াহাটিতে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর একটি নতুন শাখার সদস্য। উত্তর-পূর্ব ভারতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ মতাদর্শ প্রচারই ছিল এই গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য। ধৃতদের মধ্যে ১০ জন আসামের এবং ১ জন ত্রিপুরার বাসিন্দা।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই জঙ্গি মডিউলটি ‘পূর্ব আকাশ’ নামক একটি এনক্রিপ্টেড সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণদের মগজ ধোলাই এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজ করত। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এই সংগঠনের সদস্যরা সরাসরি বাংলাদেশ-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের নির্দেশে পরিচালিত হতো। বারপেটা রোডের নাসিম উদ্দিন ওরফে তামিমকে এই আসাম সেলের প্রধান হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে গিয়ে সরাসরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে এবং হিজরতের নামে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত করেছে বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া হাওলা ও ইউপিআই (UPI) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে এসটিএফ।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সরকার পরিবর্তনের পর সে দেশের উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। পুলিশের দাবি, ধৃতরা ইমাম মাহমুদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ‘বায়াত’ গ্রহণ করেছিল এবং স্থানীয় মসজিদগুলোতে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে সশস্ত্র সংগ্রামের উসকানি দিচ্ছিল। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত ১১ জনের বিরুদ্ধে কঠোর ইউএপিএ (UAPA) এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের ধরতে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী।