ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের খিলবাড়ী টেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার সড়ক ভেঙে রেখে সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরু ও ভাঙা সড়ক, বড় গর্ত, খোলা ম্যানহোল, জমে থাকা নোংরা পানি ও পর্যাপ্ত আলোর অভাবে শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন। প্রতিদিনই মানুষ পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনি প্রচারণা চললেও সড়ক সংস্কারে কোনও উদ্যোগ নেই। কাউন্সিলর না থাকায় ওয়ার্ডের নাগরিকসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস ও ওয়াসার পানির সংকটের পাশাপাশি মশার উপদ্রব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ভাটারা থানা এলাকার এই ওয়ার্ডটি রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের পাশেই অবস্থিত। এটি ডিএনসিসির জোন-৯ এবং ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। সরেজমিনে দেখা গেছে, খিলবাড়ী টেক এলাকার ব্যস্ততম সড়কগুলোর বেশিরভাগই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আশপাশের বাড়ি থেকে বের হওয়া পয়োনিষ্কাশনের পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশার উপদ্রব বেড়েছে। মালামাল পরিবহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। চালের বস্তার মতো ভারী জিনিস মাথায় করে বহন করতে হচ্ছে। হাঁটাচলাতেই যেখানে কষ্ট, সেখানে সাইকেল, রিকশা বা ভ্যানে চলাচল প্রায় অসম্ভব।
ভাঙা সড়কগুলো রোগীদের জন্যও বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের দুই পাশে রয়েছে বসতবাড়ি ও দোকানপাট। কোথাও কোথাও ভাসমান ভ্যানে সবজি বিক্রিও চলছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা চললেও সড়ক সংস্কারে কারও দৃষ্টি নেই। নির্বাচনি প্রচারণার সুযোগে কিশোর গ্যাংয়ের অসামাজিক কর্মকাণ্ডও বেড়েছে। কেন সড়কগুলো এভাবে ফেলে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “অনেক দিন ধরেই রাস্তার এই অবস্থা। প্রতিদিন চলাচল করতে গিয়ে আমাদের সংগ্রাম করতে হয়। চোখের সামনে মানুষ পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে। কখনও কখনও শিশুদের গর্তে পড়ে যেতে দেখি। রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য আমি আমার জায়গা দিয়েছি, কিন্তু কাজ এগোয়নি।”
চাল ব্যবসায়ী নুরু মিয়া বলেন, “তিন মাস আগে কাজ শুরু হলেও দুই মাস ধরে বন্ধ। মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, আমাদের ব্যবসা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত। জমে থাকা পানিতে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে, মশার উপদ্রব বেড়েছে। দুর্গন্ধ থেকে রোগজীবাণুও ছড়াচ্ছে।”
গৃহিণী আলেয়া বলেন, “আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে স্কুলে যায়। এই রাস্তা দিয়ে তাদের একা পাঠাতে ভয় লাগে। সম্প্রতি আমার ছোট ছেলে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। আরও অনেক শিশুই গর্তে পড়ে আহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের কোনও নজর নেই। এই অবস্থায় সন্তানদের একা বাইরে পাঠাতে পারি না।”
বাসিন্দাদের অভিযোগ, গণ-অভ্যুত্থানের পর আগের কাউন্সিলরদের অপসারণের পর থেকেই ওয়ার্ডের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে কাউন্সিলর সেক্রেটারি নিয়োগ দেওয়া হলেও নাগরিক সেবা পুরোপুরি চালু হয়নি। কাউন্সিলর না থাকায় জনসেবা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি গ্যাস ও ওয়াসার পানির তীব্র সংকট এবং মশার ভয়াবহ উপদ্রব রয়েছে ওয়ার্ডজুড়ে। সড়ক সংস্কারকাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪তম ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মইন উদ্দিন বলেন, “সড়ক সংস্কারের সময় মাঝখান দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করতে হয় এবং এর জন্য প্রায় ২০ ফুট জায়গা প্রয়োজন। আমরা স্থানীয়দের কাছে জায়গা চাইলে কেউ কেউ প্রথমে রাজি হলেও পরে আপত্তি করেন। আগে কাউন্সিলররা এসব সমস্যা সমাধান করতেন। এখন কাউন্সিলর না থাকায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “কিছু মানুষের জায়গা না দেওয়ার কারণেই মূলত কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। যদিও অধিকাংশ মানুষ সহযোগিতা করেন, তবে ১০ শতাংশ মানুষের কারণেই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে মন্ত্রণালয় থেকে যে জায়গা পাওয়া গেছে, তা দিয়েই কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগে ১৪–১৬ ফুট জায়গায় কাজ হতো, এখন ২০ ফুট প্রয়োজন—এটাই মূল সমস্যা। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসে দ্রুত সমাধান করা হবে।”
রিপোর্টারের নাম 






















