ঢাকা ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

তনু হত্যা মামলার সন্দেহভাজন রিমান্ডে, ভুয়া ফরেনসিক রিপোর্টের চিকিৎসক দেশত্যাগের চেষ্টায়

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে তারসহ সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। প্রায় ১০ বছর পর মামলার অগ্রগতি প্রমাণ করে যে শুরুতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তনুর বাবা-মা। তবে, ভুয়া ফরেনসিক রিপোর্ট প্রদানকারী চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তনুর বাবা ইয়ার হোসেন এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গতকাল রবিবার সকালে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, তৎকালীন ফরেনসিক রিপোর্ট পাল্টে দিয়েছিলেন ডা. কামদা প্রসাদ সাহা, যিনি তাদের সহযোগিতা করেননি। তিনি আরও জানান যে, ডা. সাহা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন বলে তিনি শুনেছেন। এই পরিস্থিতিতে, সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তাকে গ্রেপ্তার করে মামলার রহস্য উদঘাটনে সহায়তা করার জন্য।

সূত্রমতে, তনু হত্যার পর পোস্টমর্টেম টিমের প্রধান ছিলেন তৎকালীন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। তনুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ খুঁজে পাননি বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও হত্যার সুস্পষ্ট কারণ এড়িয়ে গিয়ে তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন যে তনুর স্বেচ্ছায় একাধিক পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক থাকতে পারে, যা সে সময় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।

জানা যায়, বিতর্কিত এই চিকিৎসক বর্তমানে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে কর্মরত আছেন। সম্প্রতি খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, অধ্যাপক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি ছাড়পত্র (এনওসি) নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি সার্কভুক্ত কয়েকটি দেশে ট্যুরের নাম করে মূলত আমেরিকায় পালিয়ে গিয়ে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum) চাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে মূল মামলার আসামিরা ধরা পড়তে শুরু করায়, এই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার অন্যতম সহযোগী এবং ভুয়া ফরেনসিক রিপোর্ট প্রদানকারী কামদা প্রসাদ সাহাকে অবিলম্বে নজরদারির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তার এনওসি প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য দাবি জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন আরাগচি: ইরানের ঝটিকা কূটনৈতিক তৎপরতা

তনু হত্যা মামলার সন্দেহভাজন রিমান্ডে, ভুয়া ফরেনসিক রিপোর্টের চিকিৎসক দেশত্যাগের চেষ্টায়

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে তারসহ সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। প্রায় ১০ বছর পর মামলার অগ্রগতি প্রমাণ করে যে শুরুতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তনুর বাবা-মা। তবে, ভুয়া ফরেনসিক রিপোর্ট প্রদানকারী চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তনুর বাবা ইয়ার হোসেন এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গতকাল রবিবার সকালে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, তৎকালীন ফরেনসিক রিপোর্ট পাল্টে দিয়েছিলেন ডা. কামদা প্রসাদ সাহা, যিনি তাদের সহযোগিতা করেননি। তিনি আরও জানান যে, ডা. সাহা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন বলে তিনি শুনেছেন। এই পরিস্থিতিতে, সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তাকে গ্রেপ্তার করে মামলার রহস্য উদঘাটনে সহায়তা করার জন্য।

সূত্রমতে, তনু হত্যার পর পোস্টমর্টেম টিমের প্রধান ছিলেন তৎকালীন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। তনুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ খুঁজে পাননি বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও হত্যার সুস্পষ্ট কারণ এড়িয়ে গিয়ে তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন যে তনুর স্বেচ্ছায় একাধিক পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক থাকতে পারে, যা সে সময় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।

জানা যায়, বিতর্কিত এই চিকিৎসক বর্তমানে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে কর্মরত আছেন। সম্প্রতি খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, অধ্যাপক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি ছাড়পত্র (এনওসি) নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি সার্কভুক্ত কয়েকটি দেশে ট্যুরের নাম করে মূলত আমেরিকায় পালিয়ে গিয়ে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum) চাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে মূল মামলার আসামিরা ধরা পড়তে শুরু করায়, এই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার অন্যতম সহযোগী এবং ভুয়া ফরেনসিক রিপোর্ট প্রদানকারী কামদা প্রসাদ সাহাকে অবিলম্বে নজরদারির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তার এনওসি প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য দাবি জানানো হয়েছে।