বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বড় ছেলে তারেক রহমানের দেশে ফেরার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তাঁর এই প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশজুড়ে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১, বগুড়া-৭ এবং দিনাজপুর-৩ আসন থেকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল, যার মনোনয়নপত্র গতকালই দাখিল করা হয়েছিল।
বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক ‘অপরাজেয়’ নাম। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি প্রতিটি আসনেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি পাঁচটি করে আসনে প্রার্থী হয়ে সবকটিতেই জয়ী হওয়ার এক বিরল রেকর্ড গড়েন। এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাঁর দল বিপর্যয়ের মুখে পড়লেও, তিনি নিজে যে তিনটি আসন থেকে লড়েছিলেন, তার সবকটিতেই বিজয়ী হয়ে নিজের জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে তাঁর ভোটের ব্যবধান সবসময়ই ছিল আকাশচুম্বী, যা তাঁকে গণমানুষের অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করেছিল।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য চড়াই-উতরাই ও কারাভোগের শিকার হলেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে আপসহীন ভূমিকার জন্য তিনি ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি পান। লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিনি বারবার রাজনৈতিক সংকটে ধ্রুবতারার মতো দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে এক সিংহহৃদয় ও কালজয়ী ব্যক্তিত্বের চিরবিদায় ঘটল।
রিপোর্টারের নাম 























