গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরবর্তী বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে কয়েক হাজার কয়েদি পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের উচ্চপদস্থ সদস্য এবং দুর্ধর্ষ অপরাধীরা রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের মধ্যে জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মতো কট্টরপন্থী সংগঠনের সদস্যরা রয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলো অতীতে বাংলাদেশে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। কারাগার থেকে তাদের মুক্তি বা পলায়ন কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ সীমান্ত দিয়ে তাদের অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই পালিয়ে যাওয়া আসামিদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা। পুলিশ বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়া এবং অনেক থানায় কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জঙ্গিদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে। এছাড়া প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, কিছু অসাধু চক্র এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনা করছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং প্রতিবেশী দেশগুলো এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। উগ্রবাদীদের এই পলায়ন দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, দ্রুত গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























